দূরপাল্লার পরিবহনে ডাকাতিসহ অন্যান্য অপরাধ রোধে যশোরের পুলিশ ফের যাত্রীদের ভিডিও ফুটেজ ধারণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ঈদের পরেও এ কার্যক্রম চালু থাকবে। পরিবহন শ্রমিকরা এ পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছে। সূত্র জানায়, যশোর থেকে বিভিন্ন দূরপাল্লার রুটে পরিবহনে প্রায়ই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ঈদ ও অন্যান্য উত্সবকে সামনে রেখে ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যায়। গত ২৫ জুন যশোর-মাগুরা সড়কের পোলেরহাট বাজারে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা তিনটি পরিবহনে যাত্রীবেশী ডাকাতরা ডাকাতি করে। ডাকাতদের আক্রমণে ঈগল পরিবহনের চালক রইসুল ইসলাম ও এসকে সুপার লাইনের রেজাউল ইসলাম আহত হন। এর কিছুদিন আগে খাজুরা এলাকায় ডাকাতরা রাস্তায় ব্যারিকেড দিলে পরিবহন শ্রমিকদের তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপে পুলিশ হাজির হলে ডাকাতরা পালিয়ে যায়।
পরিবহন শ্রমিকরা জানান, যশোরের বেশ কয়েকটি রুটের একাধিক স্পট বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। যেমন যশোর-মাগুরা সড়কের পোলেরহাট বাজার, হাশিমপুর সার কারখানার সামনে, পাঁচবাড়িয়া স্কুলের সামনে, মাগুরা সদর উপজেলার জাগলা ব্রিজ, কিসমত রাজাপুর ও হুদা রাজাপুরের মাঝামাঝি স্থান, যশোর-মনিরামপুর সড়কের কানাইতলা, যশোর-খুলনা সড়কের পিকনিক কর্নারের কাছে গোপালপুর মোড়, যশোর-বেনাপোল সড়কের নতুনহাট বাজার, পুলেরহাট মোড়, যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সামনেসহ কয়েকটি স্পট ঝুঁকিপূর্ণ। এসব স্থানে ডাকাতি বেশি হয়।
পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা মিঠু জানান, সোমবার রাত থেকে পরিবহন ম্যানেজারদের কাছে সতর্কতামূলক প্রচারপত্র বিলি হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রত্যেক গাড়ির মধ্যে চালকের পেছনে গ্রিল দেয়া আছে। কাউন্টার ত্যাগের সাথে সাথে সুপারভাইজার বা হেলপারকে গ্রিলে তালা মারতে হবে। রাতে যেখানে সেখানে যাত্রী উঠানামা করা যাবে না। প্রত্যেক থানা বা ফাঁড়ির পুলিশ অফিসারদের মোবাইল নম্বর চালক, সুপারভাইজার বা অন্য স্টাফরা রাখবেন—যাতে বিপদের আশঙ্কা থাকলে দ্রুত যোগাযোগ করা যায়। লাগেজ থাকলে, সিট নম্বরের সাথে মিল করে ট্যাগ লাগাতে হবে।
ঢাকা-সাতক্ষীরা রুটের ইয়োলো লাইনের ম্যানেজার শামীম আহমেদ জানান, তার পরিবহনের সকল স্টাফদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। তারা কাউন্টার ছাড়ার সাথে সাথে গ্রিলে তালা দিচ্ছেন। শ্রমিকরা বলেছেন, সতর্ক থাকার পরও যাত্রীবেশী ডাকাতদল অপরাধ ঘটাতে পারে। সেজন্য কাউন্টার ছাড়ার আগে পুলিশ যাত্রীদের ভিডিও ফুটেজ নিত। এখন নেয় না। ফুটেজ নিলে অপরাধীদের চিহ্নিত করতে সহজ হয়।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক জানান, পুলিশ অনেক আগে থেকে দূরপাল্লার পরিবহনের যাত্রীদের ভিডিও ফুটেজ নিত। মাঝে কিছুদিন এটা বন্ধ ছিল। তবে পহেলা রোজা থেকে পুলিশ আবারো ফুটেজ নেয়া শুরু করেছে।
