হঠাত্ করে নগরীতে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার (টমটম) বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়ায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট শহরে এমনিতেই আকাশচুম্বী রিকশা ভাড়া, রয়েছে রিকশা সংকট। এ অবস্থায় শহরে টমটম নামলে সংকট থেকে কিছুটা হলেও রেহাই পান নগরবাসী। কিন্তু গতকাল বুধবার পুলিশ টমটম ধরা শুরু করলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। এ সুযোগে ভাড়া বাড়িয়ে দেয় রিকশা চালকরা।
কয়েক বছর আগে নগরীতে টমটম চলাচল শুরু হলে এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। এর লাইসেন্স নিয়ে বিআরটিএ ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে রশি টানাটানির কারণেই টমটম বৈধ যানবাহন হতে পারেনি-এমন অভিযোগ মালিকদের। তবে প্রথম পর্যায়ে সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়ে বেশ কিছু টমটম নগরীতে চলাচল করে। এক পর্যায়ে সিটি করপোরেশন অনুমোদন দেয়া বন্ধ করে দেয়। কিন্তু নগরীতে রিকশা ভাড়া বেশি হওয়ায় ও তীব্র রিকশা সংকটের কারণে টমটমের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ে। ফলে লাইসেন্স ছাড়া (‘সমঝোতার মাধ্যমে’) নগরীতে আরো টমটম নামে। এতে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয় বটে। বড় কথা নগরীর পরিবহন সঙ্কটও অনেকটা লাঘব হয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া উইং প্রধান রহমত উল্লাহ জানান, আপাতত নগরীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টকে কেন্দ্র করে অভিযান শুরু হয়েছে। পয়েন্টগুলো হচ্ছে- আম্বরখানা, সুরমা মার্কেট, সুবহানীঘাট, পুলিশ লাইন, নাইরওপুলসহ আরও কয়েকটি এলাকা। তিনি জানান, পুলিশ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা কমিটি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের যৌথ সিদ্ধান্তে এ অভিযান শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে নগরীর প্রাণকেন্দ্র বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, আম্বরখানা এলাকাকেই প্রধানত টমটম শূন্য রাখা হবে। পরবর্তীতে পুরো নগরীকে এই অবৈধ যানমুক্ত করতে উদ্যোগ নেয়া হবে।
এদিকে পুলিশের এই অভিযানের বিরুদ্ধে মালিক-শ্রমিকরা আন্দোলনে যাচ্ছেন বলে তারা জানান।
টমটম চালকদের অভিযোগ প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের কথা তাদের আগে জানানো হয়নি। তবে পুলিশ বলেছে, নগরীতে টমটম প্রবেশের নিষেধাজ্ঞার কথা সংশ্লিষ্টদের আগেই জানানো হয়েছে। এমনকি মাইকিংও করা হয়েছে।
