বিদ্যুত্ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হোন :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৯
বিদ্যুত্ ব্যবহারে আরও যত্নবান ও সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য ঢাকাবাসীসহ দেশের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, পানি শোধন এবং বিদ্যুত্ ও গ্যাস উত্পাদনে যে খরচ হয়, ব্যবহারকারীরা তা দেন না। ভর্তুকি দিয়ে কম দামে বিক্রি করতে হয়। উত্পাদনের খরচ সবাইকে দিতে হবে। তাতে আরও বেশি বিদ্যুত্ উত্পাদন করা যাবে। বিদ্যুত্ সাশ্রয়ে সরকারি কার্যালয়ের বড় বড় কর্মকর্তা, কর্মচারী, সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিসহ সবারই উচিত প্রয়োজন ছাড়া সুইচ অফ রাখা। অফিস বা বাসা থেকে বের হওয়ার সময় নিজ হাতে সুইচ অফ করলে কারও সম্মান যায় না। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির ব্যাপারে তার সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ঢাকার ধানমন্ডি থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের ওই সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা আরো বলেন, আমি নিজেও আমার বাসার ও অফিসের সুইচ নিজেই অফ করি। আমার ছেলেমেয়ে, নাতি-পুতিকেও এই ট্রেনিং দেয়া রয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া বিদ্যুতের সুইচ বন্ধ রাখলে একদিকে যেমন সাশ্রয় হয়, তেমনি বিলও কম আসবে। অনেকে টেলিভিশনের লালবাতি জ্বালিয়ে রাখেন, যেন ডাইরেক্ট চলে। কেন, পুরোপুরি বন্ধ করলে সমস্যা কী! ওই লালবাতি জ্বললেও কিন্তু বিদ্যুতের বিল ওঠে। তিনি আরও বলেন, দেশের ৬২ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় রয়েছে। শুধু রাজধানীবাসীকে নয়, সারাদেশকে আমরা লোডশেডিংমুক্ত করতে চাই। বিদ্যুতের উত্পাদন বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যেমন- কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্র, বায়োগ্যাস, পানিবিদ্যুত্ কেন্দ্র, সোলার এনার্জি, পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ ইত্যাদি। ভবিষ্যতে দক্ষিণাঞ্চলেও একটি পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, দেশে এখন ১ কোটি সীমকার্ড ব্যবহার হচ্ছে। তাহলে কতগুলো মোবাইল প্রতিদিন চার্জ হচ্ছে! ৪ লাখ ৮০ হাজার লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করে। এতে কতগুলো কম্পিউটার-ল্যাপটপ চলে! আগের তুলনায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্রেরও ব্যবহার বেড়েছে। এখন রাইস-কুকারসহ রান্না-বান্নায়ও বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে। তাই এর ব্যবহারে সবাই মিতব্যয়ী হলে উত্পাদন আরও বাড়বে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের লক্ষ্য প্রত্যেক ঘরে-ঘরে বিদ্যুত্ পৌঁছে দেয়া। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট ও ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দেশের উন্নয়ন করতে চাই। যেখানেই বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে, যেখানেই আমরা লাভবান হব, সেখানেই আমরা যুক্ত হব। কারণ বর্তমান বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ। এখানে কেউ একা চলতে পারে না। চীন যদি কোনো অর্থনৈতিক সংস্থা গড়ে তোলে, এর ফলে যদি আমরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হই, তাহলে অবশ্যই আমরা তাতে যুক্ত হব। ঢাকা-১১ আসনের এ কে এম রহমতুল্লাহ’র এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দলের আদর্শ, নীতিমালা ও ঘোষণাপত্র আছে। সে অনুযায়ী আমাদের দলের নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করা হয়। সেই ইশতেহার মাথায় রেখে আমরা জাতীয় বাজেটও প্রণয়ন করি। যার কারণে অনেক সময় ইশতেহারে থাকা প্রতিশ্রুতির চেয়েও আমরা বেশি কাজ করি। চট্টগ্রাম-৪ আসনের সরকার দলীয় সদস্য দিদারুল আলমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছে, কোনো বাধা দেয়নি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এ সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়। বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে সম্প্রতি আমি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেছি। এই সমস্যা সমাধানে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করছে। আশা করছি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে ২৯ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে, অনিবন্ধিত কয়েক লাখ। তারা মাঝেমধ্যে নানা সমস্যা করে। এদিকে এনামুল হকের একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আগের মেয়াদ (২০০৯-১৩) এবং বর্তমান মেয়াদের ছয় মাসে কৃষিতে মোট ৪০ হাজার ২৭৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ভর্তুকি দেয়া হয়েছে। ১০ টাকার বিনিময়ে এ পর্যন্ত ৯৮ লাখ ৫৪ হাজার ৬০৬টি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ডের সংখ্যা ১ কোটি ৪৪ লাখ ৮৭ হাজার ১৩৭ থেকে ২ কোটি ৩০ লাখে উন্নীত করার জন্য ৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, কৃষির উপকরণ ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সরকার উপকূলীয় অঞ্চলের ১৪টি জেলায় ৫৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়ন করেছে। মহাপরিকল্পনায় ৮৫টি খাত চিহ্নিত করে এটি বাস্তবায়নের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে ২০১২ সাল।