বাস্তবের সুপারহিরো!

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৪, ২০:১৫
চোখের সামনেই দাউ দাউ করে জ্বলছে চালক সমেত একটি গাড়ি। দূর থেকে অনেকে তা দেখলেও সাহস নিয়ে এগিয়ে আসতে পারছেন না কেউ। এ অবস্থায় যেন অনেকটা নাটকীয় ভঙ্গিতেই এগিয়ে এলেন মোটামুটি সুঠামদেহী এক ব্যক্তি। যেখানে গাড়ির ভেতরে থাকা লোকটি অনেক চেষ্টা করেও গাড়ির দরজা বা জানালা খুলে বেরিয়ে আসতে পারছিলেন না সেখানে তাকে উদ্ধার করতে আসা ব্যক্তিটি অনেকটা অবিশ্বাস্য শক্তি দিয়েই এক ঝাটকায় বাঁকিয়ে ফেললেন গাড়ির দরজার ওপরের অংশটি। তারপর মাথা ঠান্ডা রেখে বের করে নিয়ে এলেন আরেকটু হলেই আগুনে পুড়ে মরতে বসা চালককে। না, এতক্ষণ যা পড়লেন সেটা সিনেমার কোনো অ্যাকশন দৃশ্যের অংশ নয়। বরং বাস্তবেই এ ধরনের অতিমানবীয় শক্তির প্রদর্শণী দেখিয়ে সম্প্রতি সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের রবার্ট রেনিং নামের এক ব্যক্তি। নিউ ব্রাইটন শহরের কাছে আই-থার্টি ফাইভ সড়ক ধরে গাড়ি চালাতে থাকা মাইকেল জোহানেস নামের এক ব্যক্তির গাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখেই তাকে বাঁচাতে ছুটে আসেন একই সড়ক ধরে গাড়ি চালাতে থাকা রেনিং। তবে তিনি যতক্ষণে জোহানেস এর কাছে পৌঁছুতে সক্ষম হন ততক্ষণে তার গাড়ির ভেতরের পুরোটাই ধোঁয়ায় ভর্তি হয়ে গেছে এবং জোহানেসও ক্রমেই দরজা খুলতে পারার শক্তি হারাচ্ছেন। এমনকি এ সময় বেশ কয়েকবার ভেতর থেকে গাড়ির কাঁচের জানালায় লাথি দিয়েও সেটি ভাঙতে ব্যর্থ হন তিনি। সবমিলিয়ে জোহানেসের অবস্থা যখন এমন যে আর কিছুক্ষণের মাঝেই তিনি পুড়ে মারা পড়তে যাচ্ছেন তখনই রেনিং তার অবিশ্বাস্য শক্তি দিয়ে আটকে থাকা দরজার ওপরের অংশ বাঁকিয়ে কাঁচ ভেঙ্গে ফেলেন এবং একই সাথে বেশ অনেকটা ফাঁকা জায়গাও তৈরি করেন। পরে এই ফাঁকা জায়গা দিয়ে জোহানেসকে বের করে আনার কাজটিও তিনিই করেন। এদিকে রেনিং এর এই কীর্তি দেখে বিস্ময়ে চোখ কপালে উঠেছে ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে উপস্থিত হওয়া পুলিশ সদস্যদেরও। তাদেরই একজন জাকারি হিল বলেন, ‘রেনিং যা করেছেন তা একই সাথে অবিশ্বাস্য ও অসাধারণ। আমার তো মনে হয় আমাকে যদি লোহার দন্ডও দেওয়া হতো তাও হয়তো আমি এভাবে দরজা বাঁকাতে পারতাম না।’