সদ্যসমাপ্ত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে কমিয়ে আনা লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করতে পারেনি আয়কর খাত। টানা চার অর্থবছর শেষে এবারই লক্ষ্যমাত্রার বিবেচনায় আয়কর আদায়ে ঘাটতি দেখা গেল। অর্থবছর শেষে প্রাথমিক হিসাবে দেখা গেছে, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৯শ’ কোটি টাকা কম আয়কর আদায় হয়েছে। রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। অবশ্য আয়কর বিভাগ মনে করছে, ভ্রমণ করসহ অন্যান্য কর হিসাবভুক্ত হওয়ার পর আয়কর আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে বা সামান্য ঘাটতি থাকবে।
বিগত অর্থবছরের শুরুতে আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয় ৪৮ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। পরবর্তীতে রাজনৈতিক অস্থিরতায় অন্যান্য খাতের ন্যায় কর আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এই পরিস্থিতিতে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা ১১ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে আনতে বাধ্য হন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ফলে আয়করের লক্ষ্যমাত্রাও কমিয়ে ৪৪ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা করা হয়।
আয়কর বিভাগের হিসাবে দেখা গেছে, মূলত বৃহত্ করদাতাদের কাছ থেকে কাঙ্খিত পরিমাণে কর না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আয়করের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যায়নি। সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান থেকে কাঙ্খিত মাত্রায় আয়কর আদায় করা সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানামূখী কারণে বিগত অর্থবছরে এসব প্রতিষ্ঠানের আয়ে ভাটা পড়েছে।
চলতি অর্থবছরে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য স্থির করেছেন অর্থমন্ত্রী। এর মধ্যে রাজস্বের তিনটি খাতের মধ্যে আয়কর খাত থেকেই সর্বোচ্চ ৫৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় এই লক্ষ্যমাত্রাও বেশি। অবশ্য বাড়তি আয়কর আদায়ের লক্ষ্যে এবারের বাজেটে বেশকিছু খাতের উপর করহার বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে করের আওতার বাইরে থাকা কয়েকটি খাতকে করের আওতায় আনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ২৬ ধরনের পণ্য ও সেবার উেস কর হার বৃদ্ধি বা নতুন করে আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া বিত্তবানদের উপরও বাড়তি কর আরোপ করা হয়েছে। এর বাইরে জেলা, উপজেলা পর্যায়ে করের আওতা বিস্তৃত করতে এবং কর আদায় করতে নানামূখী পদক্ষেপ থাকছে। সব মিলিয়ে নতুন অর্থবছরে আয়করের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন এনবিআরের কর্মকর্তারা।
