সুন্দরবনের চান্দেশ্বরের কাতলার খাল এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে কোস্টগার্ড-জলদস্যু গুলিবিনিময় হয়েছে। এ সময় গুলিবিদ্ধ দুই জলদস্যুকে ৪শ’ রাউন্ড গুলিসহ আটক করেছে পাথরঘাটা কোস্টগার্ড। পরে তাদের দেয়া তথ্যমতে পাথরঘাটার কোড়ালিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩টি ধারালো অস্ত্রসহ কাওছার নামের আরও এক জলদস্যুকে আটক করে কোস্টগার্ড। কাওছার কোড়ালিয়া গ্রামের আ. ছালামের পুত্র।
গুলিবিদ্ধ দুই জলদস্যু হলো, পাথরঘাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁন মিয়ার ছেলে ইয়াছিন (২৪) এবং পদ্মা গ্রামের ফারুক মোল্লার ছেলে সুমন (২৩)। স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, এরা সবাই পেশাদার জলদস্যু। কোস্টগার্ডের গুলিতে দুই জলদস্যু নিহত হওয়ার গুঞ্জন রয়েছে জেলেদের মধ্যে। তবে জলদস্যু নিহত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে কোস্টগার্ড।
উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১টি পাইপগান, ১টি বন্দুক ও ১টি এয়ারগান, ২টি ধারালো রামদা ও ১টি কুড়াল। বৃহস্পতিবার দুপুরে আটককৃত ৩ জলদস্যু ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র পাথরঘাটা থানায় হস্তান্তর করেছে কোস্টগার্ড। গুলিবিদ্ধ দুই জলদস্যুকে উন্নত চিকিত্সার জন্য বরিশাল শেবাচিমে পাঠানো হয়েছে। কোস্টগার্ডের পাথরঘাটা কন্টিনজেন্ট কমান্ডার আক্তারুল ইসলাম পাথরঘাটা থানায় ডাকাতি প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা করেছেন।
অপহূত ৩ জন উদ্ধার হয়নি
এদিকে পাথরঘাটার মাছ ধরার ট্রলার এফবি মনিরাসহ ১৭ জেলেকে অপহরণের পর ১৪ জেলেকে ছেড়ে দিয়েছে সুন্দরবনের জলদস্যুরা। তবে এখনো জলদস্যুদের হাতে ট্রলারের মাঝি ইউসুফ, মিস্ত্রি ও বাবুর্চি আটক রয়েছে। ট্রলারসহ এদের জন্য জলদস্যুরা ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে জানিয়েছেন বরগুনা মত্স্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী। গত বুধবার রাতে সুন্দরবনের পক্ষিদিয়া এলাকা থেকে ৫শ’ ইলিশ মাছ ও ১৭ জেলেসহ ট্রলারটি অপহরণ করে জলদস্যুরা। গতকাল রায়েন্দার একঢি ট্রলারে চড়ে মুক্তিপ্রাপ্ত জেলেরা পাথরঘাটায় ফিরে এসেছেন মর্মে জেলে নেতারা জানিয়েছেন।
