আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে জয়ের পরিকল্পনা

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৪, ২২:২৭
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় তথ্যপ্রযুক্তির সফল ব্যবহারের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে আরো শক্তিশালী ও গতিশীল করার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। ওয়ার্ড পর্যায় থেকে নেতা-কর্মীদের তথ্য নিয়ে দলের প্রতিটি সদস্যের ডাটাবেজ তৈরির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, যাতে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। এ জন্য আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকদের কাছে দলটির মাঠ পর্যায়ের তথ্য চেয়েছেন জয়। বৃহস্পতিবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সাংগঠনিক, প্রচার ও প্রকাশনা এবং দপ্তর সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকের পর সজীব ওয়াজেদ জয় এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতে জয় বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সরকারকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করে যাচ্ছি। এখন থেকে সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ পরিবারকে তথ্যপ্রযুক্তির সফল ব্যবহারের মাধ্যমে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে চাই। ডাটাবেজে সদস্যদের নাম, ঠিকানা ও পদবি থাকবে। সদস্যদের নাম-পরিচয় বিচ্ছিন্নভাবে না রেখে, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে একটি পয়েন্টে রাখা হবে। যাতে প্রয়োজনে সবার সঙ্গে তাত্ক্ষণিক যোগাযোগ করা যায়। তিনি বলেন, আওয়ামী পরিবার সবসময় সরকারকে সহযোগিতা করে। সরকার আওয়ামী পরিবারকে শক্তিশালী করার জন্য ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে চলমান রাখতে তথ্য প্রযুক্তিকে কিভাবে ব্যবহার করা যায় সে ব্যাপারে মতামত বিনিময়ের জন্যই সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। তিনি বলেন, দলকে শক্তিশালী করতে আমরা মাঠ পর্যায়ের তথ্য নিচ্ছি। সবার সহযোগিতা চাচ্ছি। এভাবেই এগিয়ে যাবো, আওয়ামী লীগকে এগিয়ে নেবো। সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে, পাঁচ বছরই থাকবে। সরকার সাড়ে পাঁচ বছর ধরে ভালভাবে দেশ চালিয়ে যাচ্ছে। দেশকে এগিয়ে নিতে আমাদের অনেক পরিকল্পনা আছে। সবকিছুর বাস্তবায়ন হলে, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। আওয়ামী লীগের সব সংসদ সদস্যের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট না থাকার বিষয়ে জয় বলেন, দলের মধ্যে যেসব তরুণ ও প্রগতিশীল সংসদ সদস্য আছেন তাদের সবারই ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট আছে। আর অন্য যাদের নেই তাদের হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে আমরা তাদের সহযোগিতা করব। মঙ্গলবার গণভবনে তরুণ সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তার বৈঠকের বিষয়ে একজন সাংবাদিক জানতে চাইলে সজীব ওয়াজেদ বলেন, বেশির ভাগ তরুণ সংসদ সদস্য আমার বয়সী। শুধু নির্বাচনী কাজে নয়, তারা আওয়ামী লীগকে কীভাবে সহযোগিতা করতে পারেন এ বিষয়ে তাদের মতামত চেয়েছি। দলকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনে পর্যায়ক্রমে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। জানা গেছে, প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা এ বৈঠকে জয় উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে জানতে চান, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে দলকে সহযোগিতা করা যায়। এ সময় প্রায় সব সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, নেতা-কর্মীদের নাম, পদবি ও ঠিকানা দিয়ে একটি একক ডাটাবেজ করা যেতে পারে। ২০২১ সালের মধ্যে শুধু সরকারি অফিসগুলো ডিজিটাল করলে হবে না, আওয়ামী লীগকেও করতে হবে। এ প্রসঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, সব নেতার নাম একটি পয়েন্টে নিয়ে আসা হবে। এ জন্য মাঠ পর্যায়ের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সাংগঠনিক সম্পাদকদের প্রতি আহ্বান জানান। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমেদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বীর বাহাদুর, বিএম মোজাম্মেল হক, মিজবাহ উদ্দিন সিরাজ, আবু সাঈদ আল মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক আবদুল মান্নান খান, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।