যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে কঠোর নিরাপত্তা, ব্রিটেনেও সতর্কতা

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৪, ২২:২৭
আল-কায়েদা জঙ্গিদের হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চলাচল করে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের এরকম কয়েকটি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক মন্ত্রী জনসন বলেন, তাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যে, সাধারণ তল্লাশিতে সনাক্ত করা যায় না এমন বিস্ফোরক ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে আল-কায়েদাসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। একারণে বিভিন্ন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং আগামী কয়েকদিন তা বহাল থাকবে। তবে কোন কোন বিমানবন্দরে জঙ্গি হামলার আশংকা রয়েছে সে ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা সমপ্রতি প্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো আমাদের বিদেশী মিত্র ও বিমান শিল্পকে অবহিত ও আলোচনা করছি।’ জনসন বলেন, জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চলাচল করে বিদেশের এরকম কয়েকটি বিমানবন্দরে আগামী কিছুদিন নিরাপত্তা জোরদার করতে পরিবহণ নিরাপত্তা প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোমল্যান্ড নিরাপত্তা বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের কয়েকটি বিমানবন্দরে জঙ্গি হামলার এ আশংকা করা হচ্ছে। নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এটা করা হয়েছে। মার্কিন সন্ত্রাস দমন কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে একটি বার্তা সংস্থার খবরে জানানো হয়, জঙ্গিগোষ্ঠী হামলার জন্য নতুন ধরনের বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করতে পারে। আত্মঘাতী হামলাকারীর শরীরে ‘নন-মেটাল বিস্ফোরক দ্রব্য’ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ঢুকিয়ে দেওয়া হতে পারে। মেটাল ডিটেক্টর বা সাধারণভাবে দেহ তল্লাশিতে এসব বিস্ফোরক শনাক্ত করা সম্ভব নয়। মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে, বিমান হামলার জন্য আমেরিকান বা ইউরোপীয় পাসপোর্টধারী যাত্রীকে ব্যবহার করা হতে পারে। এ ধরনের যাত্রীদের সাধারণত বিমানবন্দরগুলোতে কড়া তল্লাশিতে পড়তে হয় না। জঙ্গিরা টুথপেস্ট টিউব, জুতা কিংবা প্রিন্টারের কালির ভেতর করে বিস্ফোরক বহন করতে পারে যা সাধারণ তল্লাশিতে ধরা পড়বে না। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এজাতীয় পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিমান শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে আমরা বিমান নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক নজরদারি করে চলেছি। আমরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি যাতে যাত্রীদের ভ্রমণ ও নিরাপত্তায় কোনোপ্রকার বিঘ্ন না ঘটে। জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা আমাদের কাছে অগ্রাধিকার। এদিকে, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিমানে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণকারীদের এখন থেকে বিমানবন্দরে আরো কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশির সম্মুখীন হতে হবে। উগ্রপন্থী মুসলিম সংগঠনগুলো নিরাপত্তা তল্লাশীকে ফাঁকি দিতে সক্ষম এমন বিস্ফোরক তৈরি করছে এমন আশংকার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা জোরদারের এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এ পদক্ষেপের ফলে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ মৌসুমের শুরুতে যাত্রীদের জন্য নতুন বিপত্তির ঝুঁকি দেখা দিয়েছে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রগামী কিছু সরাসরি ফ্লাইটের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।