কৃষি জমি হ্রাস জাতীয় পর্যায়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৪, ২২:২৮
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, বাংলাদেশ কৃষি নির্ভর দেশ। অধিক জনসংখ্যার চাপের কারণে গৃহনির্মাণ, শিল্প-প্রতিষ্ঠান ও ইটভাটা স্থাপনসহ নানা কার্যক্রমে কৃষি জমি ব্যবহার হচ্ছে। ফলে কৃষি জমি হ্রাস পাচ্ছে। বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছরই প্রায় ১ শতাংশ কৃষি জমি অকৃষি জমিতে পরিণত হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে নোয়াখালী-১ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ উদ্বেগের কথা জানান। এই প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, কৃষি জমি সংরক্ষণের স্বার্থে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। যার অংশ হিসেবে ইটভাটা স্থাপন থেকে কৃষি জমি সংরক্ষণের জন্য মন্ত্রণালয় এরইমধ্যে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ জারি করেছে। আইনটি গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে শুরু করেছে। এই আইনে ইট প্রস্তুতে কৃষি জমির মাটির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের অনুকূলে পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদানের সময় মূল্যবান কৃষি জমি ব্যবহারে নিরুত্সাহিত করছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় কৃষি নীতি-২০১৩’ প্রণয়ন করেছে। এই নীতিতে কৃষি জমিকে অকৃষি কাজে ব্যবহার করাকে নিরুত্সাহিত করা হয়েছে। সরকারি দলের হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, বনায়নের নামে বন বিভাগ এমন কিছু গাছ লাগাচ্ছে যেগুলো দেশীয় নয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছে বলে মনে হচ্ছে না। এর জবাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, কোন্ ধরনের গাছ পরিবেশের জন্য সহায়ক নয়, তা সুনির্দিষ্ট করে জানানো হলে মন্ত্রণালয় অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। সিলেট-৩ আসনের মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ মন্ত্রী জানান, ২০১৩ সালের মার্চ-এপ্রিলে এবং নভেম্বর-ডিসেম্বর সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা চলাকালে দেশের সড়কের পার্শ্ববর্তী বনবিভাগ নিয়ন্ত্রণাধীন বাগানের ১৪ হাজার ৩৪৫টি গাছ অবৈধভাবে কর্তন করা হয়েছে। গাছ কর্তনের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মাইক্রোক্লাইমেট ও জীব-বৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার আর্থিক মূল্য নিরূপণ করা সম্ভব নয়। তবে আবর্তকাল শেষে এসব গাছের প্রতিটির গড় মূল্য কমপক্ষে তিনশ’ টাকা হিসেবে প্রায় ৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বন বিভাগ মোট ১৫৩টি মামলা করেছে। মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর অনুপস্থিতিতে তার প্রশ্নটি উত্থাপন করেন আওয়ামী লীগের নূরুল ইসলাম সুজন। পরে সম্পূরক প্রশ্নে তিনি বলেন, গাছের মূল্য ৩০০ টাকা ধরা বর্তমান বাজার মূল্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্য। এই মূল্যায়ন ঠিক হয়নি। ১৫৩টি মামলার বিষয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের করণীয় কি জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, দেশে রাজনৈতিক সহনশীলতার অভাবে সবসময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকে। এসব মামলার ভবিষ্যত্ কি তা আদালত নির্ধারণ করবে। আওয়ামী লীগের বেগম নূরজাহান মুক্তার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পুরনো পদ্ধতিতে ইট পোড়ানো ১ জুলাই থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরির ফলে পরিবেশের ভারসাম্য হারানো এখন শুধু বাংলাদেশেরই নয়, এটা বৈশ্বিক সমস্যা। আমাদের দেশেও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এই বিষয়টি একটু বেশি করে ভাবতে হয়। অবশ্য এ ব্যাপারে জাতীয় পর্যায়ে একটি কমিটি কাজ করছে, যেটির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী। ফেনী-৩ আসনের স্বতন্ত্র এমপি হাজী রহিমউল্যাহর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে বনায়নের সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা দরকার। এজন্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। কারণ এখন দরকার সামাজিক বনায়ন। বাগেরহাট-৪ আসনের মোজাম্মেল হকের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, সুন্দরবন অঞ্চলকে সিডর-আইলার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষায় ম্যানগ্রোভ জাতীয় গাছ বেশি করে লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।