মেসির আর্জেন্টিনার অগ্নিপরীক্ষা কাল

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৪, ২২:৩২
প্রথম তিন ম্যাচে গোল, প্রথম চার ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় — বিশ্বকাপ দিয়ে নিজেকে তিলে তিলে ইতিহাসের শিখরে নিয়ে যেতে শুরু করেছেন লিওনেল মেসি। কিন্তু, মেসির এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের বিপরীতে অন্ধকার একটা দিকও আছে। কানাঘুষা চলছে — ‘মেসি বাদে আর্জেন্টিনার মধ্যে প্রাণ বলতে কিছুই নেই!’ সমালোচনা মোটেই গায়ে মাখতে চাইছে না আর্জেন্টিনা। বরং মেসিকে কাজে লাগানোটা তাদের রণ-কৌশলের অন্তর্ভুক্ত বলেই জানালেন ম্যানচেস্টার সিটির আর্জেন্টাইন ফুল ব্যাক পাবলো জাবালেতা। বলেন, ‘সবাই জানে ও আমাদের সেরা খেলোয়াড়, আমাদের অধিনায়ক, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। দলটাকে ওই খেলায়। ও দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। আর ওর মত একজন খেলোয়াড় দলে থাকলে স্বাভাবিক ভাবেই আমরা ওকেই কাজে লাগাতে চাইবো বেশি। আমাদের কৌশলটাও তেমনই। বল পেলে আমরা সব সময়ই ওকে পাস দেয়ার চেষ্টা করি। ওর পা থেকেই সবাই গোল দেখতে চায়।’ ইতিহাস গড়তে আর্জেন্টিনা আর মাত্র তিন ম্যাচ দূরে। এই তিন ম্যাচ জিতে গেলেই তৃতীয়বারের মত বিশ্বসেরার ট্রফি তুলে ধরতে পারবে তারা। কাটবে ২৮ বছরের খরা। ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ সালের পর অনেকবারই ফেবারিটের তালিকায় থাকলেও কোনবারই ভাগ্য সহায় ছিল না আর্জেন্টাইনদের। এবার ভাগ্য ফেরাতেও সেই মেসির দিকেই চোখ রাখছে আর্জেন্টিনা। জাবালেতাও সেরকমই মানছেন, ‘মেসির কাছে সব সময়ই আমাদের প্রত্যাশা একটু বেশি থাকে। বিশ্বের সেরা একজন খেলোয়াড় প্রতি ম্যাচেই আমাদের বাড়তি কিছু ঝলক দেখাবেন — এমনটাই আমরা চাই। ওর মধ্যে বিশ্বকাপ জয়ের সব ধরনের ক্ষমতাই আছে।’ মেক্সিকোতে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপটা আর্জেন্টিনাকে প্রায় একাই জিতিয়েছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। এবার বিশ্বকাপ জিতে নিলে লিওনেল মেসি উঠে যাবেন ম্যারাডোনার আসনে। জাবালেতারাও মেসির কাছ থেকে ম্যারাডোনার মত ঝলকই আশা করছেন, ‘এতোদিন পর্যন্ত মেসি যা করেছেন তা দিয়ে তিনি এরই মধ্যে বিশ্বসেরা হয়ে গেছেন। এবার বিশ্বকাপ জিতলে সর্বকালের সেরা হবার পথে ওর সামনে আর কোন বাধা থাকবে না। যেমনটা করতে পেরেছিলেন ম্যারাডোনা।’ আগামীকাল শনিবার ব্রাসিলিয়ায় আর্জেন্টাইনদের সামনে অপেক্ষা করছে বেলজিয়ামের বাধা। ইউরোপীয় দলটি এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম বড় চমক। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে দলটিও বেশ আত্মবিশ্বাসী। দলের প্লে-মেকার ইডেন হ্যাজার্ড নিজেদের শক্তিমত্তার উপর ভরসা রেখে বলেন, ‘বিশ্বকাপে আমরা টানা চারটি জয় পেয়েছি। আর খুব কম দলই এটা করতে পেরেছে। এখন সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।’ সাফল্যের বিবেচনায় আর্জেন্টিনার সাথে বেলজিয়ামের আশ্চর্যরকম মিল। বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের সর্বোচ্চ সাফল্য হল সেমিফাইনাল। ১৯৮৬ সালে সেবার শেষ চারের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার কাছে ২-০ গোলে হেরেই শিরোপা স্বপ্ন মাটি চাপা দিতে হয় বেলজিয়ামকে। আবারও ২৮ বছর পর নক আউট পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি দু’দেশ। এবার কি প্রতিশোধ নিতে পারবে বেলজিয়াম? ইডেন হ্যাজার্ডের কণ্ঠটা আত্মবিশ্বাসই শোনালো, ‘১৯৮৬ সালের কথা আমাদের মনে আছে। কোন কিছুই ফুটবলে অসম্ভব নয়। আমাদের আর্জেন্টিনাকে হারাতেই হবে।’