লাইসেন্সবিহীন চলছিলো ব্যাটারি ও ইঞ্জিন চালিত রিকশা। তবে লাইসেন্স প্রদানের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে দায়ের করা হয় একাধিক রিট পিটিশন। গতকাল বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত শুনানি শেষে এসব রিট আবেদন খারিজ করে রায় দিয়েছে বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ।
রায়ে বলা হয়, ট্রাফিক কনট্রোল এন্ড পাবলিক ভেহিক্যালস বাই লজ-১৯৭৩ সালের আইনে সিটি করপোরেশনে শুধুমাত্র মনুষ্যচালিত তিন চাকার রিকশা চলাচল করতে পারবে। এই আইনের অধীনে ব্যাটারি ও ইঞ্জিন চালিত রিকশা চলাচলের লাইসেন্স প্রদানের কোন সুযোগ সিটি করপোরেশনের নেই। তাই লাইসেন্স প্রদান না করে সিটি করপোরেশন যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছে। একইসঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে ব্যাটারি ও ইঞ্জিন চালিত রিকশা চলাচলকে অবৈধ ঘোষণা করে তা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হলো। হাইকোর্টের এ রায়ের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব রিকশা জব্দ করতে পারবে বলে জানিয়েছেন বিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের কৌঁসুলি ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে ব্যাটারি ও ইঞ্জিন চালিত রিকশার প্রদানের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে পৃথক ৫টি রিট দায়ের করেন ঢাকা জেলা রিকশা মালিক কো-অপারেটিভ সোসাইটির পক্ষে মো. ফজলুর রহমান, ঢাকা সিটি মুক্তিযোদ্ধা রিকশা-ভ্যান মালিক সমিতির পক্ষে আলহাজ্ব এম এ সোবহান, ঢাকা জেলা আওয়ামী রিকশা-ভ্যান মালিক সমন্বয় পরিষদের পক্ষে মো. মোস্তফা, বাংলাদেশ অটোবাইক লেবার ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ও খায়রুল ইসলাম। গত জানুয়ারি ও মার্চ মাসে হাইকোর্ট রুল জারির পাশাপাশি পরবর্তী ৬০ দিন এসব রিকশা চলাচলে যাতে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা না হয় সেজন্য নির্দেশনা দেয়। বিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের পক্ষে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার তৌফিক ইনাম টিপু ও অ্যাডভোকেট নাজমুল হক, সিএমপির পক্ষে ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন শামীম এবং রিট পিটিশনারের পক্ষে শফিক মাহমুদ শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট সকল রিট আবেদন খারিজ করে রায় দেন।
রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, মহানগরীতে রিকশা চলাচলের অনুমতি দিয়ে থাকে সিটি করপোরেশন। সেটা সাধারণ প্যাডেলচালিত রিকশা। কিন্তু বেশ কিছুদিন যাবত্ কিছু ব্যাটারি ও ইঞ্জিনচালিত রিকশা ঢাকা ও চট্টগ্রামে চলতে শুরু করে। হাইকোর্ট এক রায়ে এসব রিকশা চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।
