কী করে এলো

বিশ্বকাপ ফুটবল

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৪, ১৯:২৭
ঊনবিংশ শতকের শেষভাগের কথা। এমনিতে অনেক দেশের সৌখিন খেলোয়াড়রাই ফুটবল নামের খেলাটির সাথে একটু আধটু সম্পৃক্ত থাকলেও সে অর্থে জনপ্রিয়তা ছিল না খেলাটির। আর এরই মাঝে ১৮৭২ সালে অনেকটা অনাড়ম্বরপূর্ণ ভাবেই আয়োজিত হয়েছিল বিশ্বের প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ যাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। সে সময় যুক্তরাজ্যের বাইরে এই খেলাটি ভালোভাবে পরিচিত ছিল না বললেই চলে। তবে মাত্র দুই দশকের মাঝেই ল্যাটিন আমেরিকা আর ইউরোপের অনেক দেশেই ক্রমে ক্রমে পরিচিতি বাড়তে থাকে ফুটবলের। বিংশ শতকের একেবারে গোড়ার দিকে বিশ্বের অনেক দেশেই স্থাপিত হয় নিজস্ব ফুটবল ফেডারেশন। ১৯০২ সালের জুলাই মাসে ইংল্যান্ডের বাইরে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচটি হয় মন্টিভিডিও’তে উরুগুয়ে আর আর্জেন্টিনার মধ্যে। এসব কিছুরই প্রেক্ষিতে ১৯০৪ সালে আত্মপ্রকাশ করে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ইতোমধ্যে ফুটবলের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা একে একটি অলিম্পিকের একটি খেলা হবার স্বীকৃতিও এনে দেয়। তবে মজার বিষয় হলো অলিম্পিকে ফুটবলের এই অন্তর্ভূক্তি যতটা না প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ছিল তার চেয়ে অনেকটা বেশি যেন ছিল সৌখিন খেলোয়াড়দের ক্রীড়া প্রদর্শণী। ফলে প্রথম দু’টি অলিম্পিকে ইংল্যান্ডের জয়ও মানুষের মনে সে অর্থে দাগ কাটতে পারেনি। তবে ১৯১৪ সালে ফিফার পক্ষ থেকে অলিম্পিকের এই ইভেন্টটিকেই বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণের মাপকাঠি হিসেবে ঘোষণা করা হলে ক্রমে ক্রমে সৌখিন থেকে পেশাদারিত্বের দিকে যেতে থাকে ফুটবল দলগুলো। ১৯২০ এর অলিম্পিকে সেরা হয় বেলজিয়াম। তবে ১৯২৪ আর ১৯২৮ সালের পরবর্তী দুই আসরেই শ্রেষ্ঠত্ব বোগলদাবা করে উরুগুয়ে। সেই সাথে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবল দলেও পরিণত হয় তারা। তবে ফুটবলের এই উন্মাদনা যখন আরও বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে ঠিক সে সময়ই ১৯৩২ সালে আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক থেকে বাদ দেওয়া হয় ফুটবল খেলাটিকে। মূলত আমেরিকায় এই খেলাটি একেবারেই জনপ্রিয় নয় দাবি করেই এমনতর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটি। এ প্রেক্ষিতে ফিফার তত্কালিন সভাপতি জুলেরিমে অলিম্পিকের বাইরে প্রথমবারের মতো বিশ্ব ফুটবলের আলাদা একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন। আর তার এই সিদ্ধান্ত থেকেই জন্ম হয় ফুটবল বিশ্বকাপের। সিদ্ধান্ত হয়, দুই বারের অফিসিয়াল ফুটবল চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের স্বাধীনতার শতবর্ষ উপলক্ষে ১৯৩০ সালে এই দেশটি থেকেই যাত্রা শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপের। তবে ফিফার এই সিদ্ধান্তে খুশি হতে পারেনি ইউরোপের দেশগুলো। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে লাতিন আমেরিকায় গিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিতে রাজি হয়নি ইংল্যান্ড, ইতালি, জার্মানি ও স্পেনের মতো দেশগুলো। তবে ফিফার সভাপতি অনেক কষ্টে রাজি করিয়েছিলেন বেলজিয়াম, ফ্রান্স, রোমানিয়া ও যুগোস্লাভিয়াকে। এরই সাথে দক্ষিণ আমেরিকার সাতটি দল এবং মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রকে মিলিয়ে মোট ১৩টি দলকে চারগ্রুপে ভাগ করে শুরু হয়েছিল প্রথম বিশ্বকাপ। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন চারটি দল সরাসরি খেলে সেমিফাইনালে এবং পরবর্তীতে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে স্বাগতিক উরুগুয়ে।