উন্নয়ন-দৌড়ে পিছিয়ে পড়া এশিয়া, আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় দেশগুলো এখন চীনকে নিয়ে গর্ব করে। কারণ, তাদের মতো চীনের জনগণ ১৯৭০’র দশকেও দারিদ্র্যক্লিষ্ট ছিল। এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে দেশটি। তাদের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে বিশ্বের সর্ববৃহত্ অর্থনীতিতে পরিণত হওয়া। একদলীয় কমিউনিস্ট শাসিত চীনে মানবাধিকার ছিল না। অর্থনীতি ছিল ভঙ্গুর ও অন্তর্মুখী। বিদেশ থেকে কোনো পণ্য আনবো না, রপ্তানিও করবো না— এই ছিল তাদের নীতি। প্রায় ১০০ কোটির মানুষের দেশে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। কৃষিকাজের বাইরে তাদের কর্মসংস্থানের বড় ক্ষেত্র ছিল ছোট ছোট ম্যানুফেকচারিং শিল্প। এসব শিল্প-কারখানায় উন্নত দেশের প্রযুক্তি ও পণ্যের অনুকরণে দেশীয় পণ্য উত্পাদন করা হতো। শ্রমঘন এসব শিল্পপণ্য দিয়ে নিজেদের চাহিদা মেটাতো। মার্কিন ও সোভিয়েত এই দুই মেরুর বিশ্বে তাদের স্থায়ী মিত্র বলে উল্লেখযোগ্য কেউ ছিল না। শত্রুর শত্রু বিধায় মিত্র- এমন সূত্রে পাকিস্তান, কম্বোডিয়া, মায়ানমার এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ তাদের মিত্র ছিল। এ দেশগুলোর সাথে সীমিত বাণিজ্য সম্পর্ক ছিল চীনের। এশিয়ার বাইরে পণ্য রপ্তানির তেমন সুযোগই তারা পায়নি। তাদের রক্ষণশীল নীতির কারণে ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু হওয়া শুল্ক ও বাণিজ্য বিষয়ক সাধারণ চুক্তি (গ্যাট) আলোচনায়ও তাদের স্থান হয়নি। তাই গ্যাট আলোচনার সুফল হিসেবে ১৯৯৫ সালে যখন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় তখন চীন এর সদস্য হতে পারেনি। ফলে তারা ২০০৪ পর্যন্ত বিশ্ববাণিজ্যের মূল স্রোতধারার বাইরেই ছিল। কিন্তু একটি কর্মঠ জাতি তো এভাবে কায়ক্লেশে চলতে পারে না। তাই সত্তরের দশকে তাদের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম পলিট ব্যুরো অর্থনীতিকে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেয়। রক্ষণশীল ও মুক্তবাজারের মিশ্রণে নতুন অর্থনৈতিক দর্শনের আলোকে দেং জিয়াওপিং এর নেতৃত্বে ১৯৭৮ সালে অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু হয়। বিশ্ববাজারের গতি-প্রকৃতির সাথে সঙ্গতি রেখে শিল্পায়ন ও রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে তারা প্রতিবছরই সংস্কার কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনছে। ফলে দেশটি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ৩৫ বছর ধরে গড়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা অব্যাহত থাকায় তারা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিরবচ্ছিন্নভাবে বাস্তবায়ন করতে পারছে। দুর্নীতি হচ্ছে। ধরা পড়লে সাজাও হচ্ছে। তাই জনগণ তা মেনে নিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আত্মনিয়োগ করছে। যদিও পশ্চিমা বিশ্ব চীন সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকারের তোয়াক্কা না করা, বিশ্ববাজার ম্যানিপুলেশন করা, দেশীয় মুদ্রা ইউয়ানের মান কমিয়ে রাখা, ফেয়ার বাণিজ্য রীতি অনুসরণ না করা ইত্যাদি অভিযোগ অনবরত করে যাচ্ছে। চীন এসব সমালোচনা গায়ে না মেখে তাদের সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। দারিদ্র্য ঘোচাচ্ছে। অর্থনীতিকে সুদৃঢ় করছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সব উন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতিই চীনের সাথে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্পর্ক বৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। পূর্ব চীন সমুদ্রে সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে চীন-জাপান বিরোধ এবং চীনের সঙ্গে ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাই এর সাউথ চায়না সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ সত্ত্বেও চীনের সাথে পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর বাণিজ্যিক লেনদেন বাড়ছে। বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি আদান-প্রদান বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে গোটা এশিয়া প্রবৃদ্ধি অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ এই প্রবৃদ্ধি বলয়ের ভিতরেই অবস্থান করছে। প্রায় এক দশক ধরে গড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বাংলাদেশের আমদানির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আসে এশিয়ার এই পূর্বাঞ্চল থেকে। বহু বছর ধরে চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম আমদানি উত্স। প্রতি বছরই এ আমদানির হার বাড়ছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে মোট আমদানির ১৬ শতাংশ আসলেও সদ্য সমাপ্ত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশের মোট আমদানির ২০ শতাংশের বেশি এসেছে চীন থেকে। আগামী বছরগুলোতে এ আমদানি হার আরও বাড়বে। কারণ, অনেক চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের বিদ্যুত্, সেতু, সড়কসহ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপকভাবে অংশ নিচ্ছে। তাদের মালামাল ও যন্ত্রপাতির একটা বড় অংশ আসবে চীন থেকে। চীনের সাথে বাংলাদেশের এ অর্থনৈতিক যোগাযোগকে উভয়মুখী করার মাধ্যমে একটি উইন-উইন সম্পর্ক গড়ার লক্ষ্যে ৫ জানুয়ারিতে পুনঃনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার শুরু থেকেই চীনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। পাশাপাশি জাপান ও ভারতের সাথেও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন সরকারের এই পূর্বমুখী অন্বেষণ শুভপ্রদই মনে হচ্ছে।
অত্যন্ত সফল জাপান সফরের দুই সপ্তাহের মধ্যেই গত জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছয় দিনের জন্য চীন সফর করেছেন। এটি ছিল দ্বিপাক্ষিক সফর। সফরটি শুরু হয় চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং-এ চীন-দক্ষিণ এশিয়া বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। তিনি তারপর যান রাজধানী বেইজিং-এ চীনা নেতৃবৃন্দের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করতে। এতদিন বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের মূল লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করা। এ সফরের মধ্য দিয়ে এটি কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করতে উভয় দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। বাংলাদেশের দুই বৃহত্ প্রতিবেশী ভারত ও চীন। তাই দেশের উন্নয়ন ও শান্তি নিশ্চিত করার জন্য ভারত ও চীনের সাথে সুসম্পর্ক রাখা জরুরি। ভারত এবং চীনের শান্তি ও উন্নয়ন নির্বিঘ্ন করতেও তাদের বাংলাদেশকে সাথে পাওয়া প্রয়োজন। শুধু বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করার মধ্য দিয়ে তা অর্জন সম্ভব নয়। এজন্য কৌশলগত সহযোগিতা প্রয়োজন। চীন এখন সেই সম্পর্কই গড়তে চাচ্ছে। জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ফলে এখন আর ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান হয় না। উলফা, নাগা, মিজো প্রভৃতি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশকে তাদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ভাবতে পারছে না। চীনের পশ্চিমাঞ্চলে মাঝে-মধ্যেই জঙ্গী হামলার ঘটনা ঘটছে। তাই চীন জঙ্গী মোকাবেলায় তত্পরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। এক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশকে পাশে চায়। সম্ভবত এজন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেইজিং পৌঁছার পর চীনের গণমুক্তি ফৌজ ১৯ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ৪২তম অর্থনীতির প্রধানমন্ত্রীকে এত সম্মান দেখানোর আর কি কারণ থাকতে পারে!
চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি খুবই কম। বিগত কয়েক বছর ধরে সরকার অনেক চেষ্টা-তদবির করে চীনের বাজারে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে প্রায় শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার আদায় করেছে। ফলে ২০০৯-১০ অর্থবছরে চীনে যেখানে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির মাত্র এক শতাংশ রপ্তানি হতো সেখানে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তা তিন শতাংশে উন্নীত হয়েছে। পরিমাণের দিক থেকে তা মাত্র ৬৮ কোটি ডলার। অথচ ২০১৩ সালে চীন বিশ্ববাজার থেকে ১ লক্ষ ৯৫ হাজার কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও চীন বাংলাদেশকে তার পছন্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেনি। চীন বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের পরই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্টকারী দেশ। একইসাথে বিশ্বের চৌদ্দতম বিনিয়োগকারী দেশও চীন। দেশটি ২০১৩ সালে ৫৪১ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ অতি সামান্য। বাংলাদেশ প্রায় সব দেশে জনশক্তি রপ্তানি করলেও চীনে সেই সুযোগ পায়নি। চীনে শ্রমিকের মজুরি গত এক দশকে প্রায় ২০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্রমঘন শিল্পগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তারা এগুলো লাউস, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার প্রভৃতি দেশে স্থানান্তর করলেও বাংলাদেশে স্থানান্তরে উত্সাহ দেখাচ্ছে না। বরং বিশ্ববাজারে চীন বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। এমনি একটি অসম অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরটি অত্যন্ত সফল হয়েছে বলেই প্রতীয়মান হয়। কারণ কৌশলগত অংশীদারিত্বের আওতায় বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মায়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর গড়ার লক্ষ্যে চীন বেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। এ লক্ষ্যে আগামী সেপ্টেম্বরে কক্সবাজারে যৌথ সমীক্ষা গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপিত হলে চট্টগ্রাম বন্দর শত শত বছর আগের ঐতিহ্য ফিরে পাবে। চারটি দেশে নিজেদের সম্পদ আদান-প্রদানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে দ্রুততর করতে পারবে। এর ফলে মায়ানমারের সাথেও সুসম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সফরকালে উভয় দেশের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষে ২০ দফা যৌথ ইশতেহার এবং ৬টি দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী চীন কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন বিশিষ্ট টানেল নির্মাণ করবে। চট্টগ্রামে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বিনিয়োগ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করবে। যৌথ উদ্যোগে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ করবে। বাংলাদেশকে দেয়া অনুদানের পরিমাণ দ্বিগুণ করতে রাজি হয়েছে। চীন নিয়মিত ঋণ ও অনুদানের আওতায় কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর দ্বিতীয় রেল-সড়ক সেতু নির্মাণ করবে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার হয়ে গুনদুম পর্যন্ত দ্বৈত গেজ রেললাইন নির্মাণ করবে। ইস্টার্ন রিফাইনারীর দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণ করবে। রাজশাহী মহানগরীতে পানি শোধনাগার নির্মাণ করবে। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে। আগামী ৪-৫ বছরের মধ্যেই প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কাজ শেষ করার ব্যাপারে উভয় দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং আরও বেশি পণ্য আমদানি করতে চীন সম্মত হয়েছে। চীনা প্রতিষ্ঠান মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি গার্মেন্টস ভিলেজ প্রতিষ্ঠা করবে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গার্মেন্টস কারখানাগুলো এ ভিলেজে স্থানান্তর করার সুযোগ হবে। নতুন কারখানা গড়ার পথও উন্মুক্ত হবে। এর ফলে দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে। কারখানার উত্পাদনশীলতা বাড়বে। বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা অর্জন সহজ হবে। তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়বে। হাইব্রিড ধান বীজ উত্পাদনে চীনের সুনাম আছে। তাই বাংলাদেশের অনুরোধে চীন ঢাকায় একটি হাইব্রিড ধান ল্যাবরেটরি স্থাপন করবে। সুপার হাইব্রিড ধান বীজও সরবরাহ করবে। এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্পর্ক এক নতুন মাত্রায় উন্নীত হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক, কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতার এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো। বহুমাত্রিক সম্পর্ক গড়ার লক্ষ্যে করা চুক্তিগুলো বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে। প্রকল্প তৈরি, সম্ভাব্যতা যাচাই এবং সঠিকভাবে ও সময়মতো বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দক্ষতা ও সামর্থ্য প্রশ্নাতীত নয়। স্বচ্ছতায়ও ঘাটতি আছে। তাই দুর্নীতি বাসা বাধে। এগুলো দূর করতে হবে। নতুন উদ্দীপনা নিয়ে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। গত কয়েক বছর ধরে বিশেষ করে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে সংবিধান ও গণতন্ত্রের প্রতি চীন যে সমর্থন যুগিয়েছে তা খুবই অর্থবহ। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে চীন বাংলাদেশের সাথে বন্ধুত্ব গভীরতর করতে যায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় চীনের বিরোধী ভূমিকা থেকে তারা বেরিয়ে এসেছে- তা প্রমাণ করতে চায়। এই সুযোগ হাতছাড়া যাতে না হয় সেজন্য সরকার ও সব রাজনৈতিক দলকে উন্নয়নমুখী হতে হবে। বন্ধুত্ব সুদৃঢ় করতে একযোগে কাজ করতে হবে। কৌশলগত অংশীদারিত্বের ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে কূটনৈতিক তত্পরতা বাড়াতে হবে। পেশাদারিত্ব দেখাতে হবে। এতে সফল হলে এ ধারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ছড়িয়ে দেয়া সহজ হবে। উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠা টেকসই হবে।
