জেলা-উপজেলায় চিকিত্সাসেবার হাল

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৪, ২০:৫০
আমাদের চিকিত্সাপদ্ধতিতে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয় উপজেলা হাসপাতালে। উপজেলা হাসপাতালে জরুরি বিভাগের জন্য কোনো চিকিত্সক দেওয়া নেই। এ কারণে যে কয়েকজন চিকিত্সক আছেন, তাঁদের দিয়েই চলে জরুরি সেবার কাজ। উপজেলা হাসপাতালগুলো আগে ছিল ৩১ শয্যার। সেগুলোর অধিকাংশই এখন ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। চিকিত্সকের সংখ্যা নয়জনের স্থানে ২২ জন করার কথা থাকলেও সেই সংখ্যা নয়জনই আছে। জেলা শহরের সবচেয়ে নিকটবর্তী উপজেলা ছাড়া কোনো উপজেলায় পূর্ণসংখ্যক চিকিত্সক থাকেন না। কখনো কখনো সরেজমিনে দেখেছি, আবাসিক চিকিত্সক এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ছাড়া মাত্র একজন মেডিকেল কর্মকর্তা দিয়েই চালানো হয় একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। পূর্ণসংখ্যক চিকিত্সক থাকলেও একেকজন মেডিকেল অফিসারকে দৈনিক গড়ে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়। একজন চিকিত্সক নিয়মিত দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যখন আর কোনো কাজ করতে পারেন না, তখন তাঁরা ফাঁকির আশ্রয় নেন। অনেকগুলো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি প্রসূতিসেবা পদ্ধতি সরকার চালু করলেও তা বাস্তবে অকার্যকর হয়ে আছে। প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ও অবেদনবিদকে বেলা দুইটার পরও জরুরি সেবা দিতে হবে বলে তাঁরা প্রসূতিসেবার কোনো কাজই করেন না। এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে অনেকগুলো উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে। খুবই ভালো উদ্যোগ। কিন্তু ইউনিয়ন পর্যায়ে একজন চিকিত্সকের থাকার অবকাঠামোগত এবং নিরাপত্তাগত কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই ইউনিয়ন পর্যায়ে কোনো চিকিত্সক থাকতে চান না। হাওড় অঞ্চল ছাড়াও অনেক সময় তাই চিকিত্সা কর্মকর্তা ইউনিয়ন পর্যায়ে পদায়ন করা থাকলেও উপজেলা হাসপাতালে তাঁদের সংযুক্তি হিসেবে কাজ করানো হয়। উপজেলা পর্যায়ে রাজনীতিকদের কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মিথ্যা মেডিকেল সার্টিফিকেটের এবং জোর করে রোগী ভর্তি করিয়ে রাখার জন্য প্রচুর চাপ থাকে। জেলা পর্যায়ের হাসপাতালেও জরুরি বিভাগে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক থাকেন না। এমনকি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও জরুরি বিভাগে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক থাকেন না। দেশের সব চিকিত্সাকেন্দ্রে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সককে অন্তর্বিভাগ এবং জরুরি বিভাগেও ২৪ ঘণ্টা রাখার ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি হাসপাতালগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সরকারের প্রয়োজনীয় অর্থ ও জনবল অপর্যাপ্ত। যে জনবল আছে, তাদের দিয়েও পরিষ্কার-পচ্ছিন্নতার কাজ ঠিকভাবে করানো সম্ভব হয় না, যার দায় বর্তায় গিয়ে চিকিত্সকদের ওপর। হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য বেসরকারি সংস্থাগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বারডেম হাসপাতালে এই পদ্ধতি চালু আছে। হাসপাতালগুলোয় রোগীদের অপেক্ষা করার মতো কোনো ব্যবস্থা না থাকার কারণে চিকিত্সা নিতে এসে তখন তারা আর অপেক্ষা করতে চায় না। সেজন্য রোগীরা একটুতেই উত্তেজিত হয়ে যায় এবং চিকিত্সাপদ্ধতি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। হাসপাতালগুলোয় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ব্যবস্থা রাখাও জরুরি। বর্তমান চিকিত্সা-সংকট কাটাতে সরকারি সীমাবদ্ধতা দূরীকরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ খুবই জরুরি। তা না হলে এ ক্ষেত্রে নৈরাজ্য চলতেই থাকবে। কিশোরগঞ্জ