এখানকার ইফতারীর বাজার একচেটিয়াভাবে দখল করে নিয়েছে ‘নাজেম’স ইফতারী বাজার’। গত কয়েক বছর যাবত্ সু-স্বাদু খাবার বিক্রি করে ক্রেতাদের মন জয় করে ইফতারির বাজারে অপ্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে উঠছে এ প্রতিষ্ঠানটি। এখন প্রতিদিন দুপুরের পর পরই এ দোকানে ইফতারী কিনতে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। ভিড় সামাল দিতে এবার দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। আস্ত খাসি থেকে শুরু করে মুরগী, খাসির রান আর শাহী জর্দ্দার পসরা সাজানো দোকানটিতে দুপুরের পরই ক্রেতাদের ঢল নামে।
নগরীর কবি জীবনানন্দ দাশ সড়কের (বগুড়া রোড) সদর গার্লস স্কুলের পাশেই রমজান মাস উপলক্ষে অস্থায়ী এ ইফতারি হাটে হরেক রকম সু-স্বাদু খাবারের পসরা সাজিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা হয়ে থাকে। তবে নাজেম’স ইফতারির বাজারের বয়স বেশি দিন নয়। এই নগরীর ভোজন রসিকরা সদর গার্লস স্কুলের উল্টো দিকে নাজেম বিরিয়ানি হাউজ নামের যে ছোট্ট দোকানটিতে নাজেম বাবুর্চির নিজ হাতে তৈরি করা সুস্বাদু বিরানী খেতে ভিড় করতেন তার পাশেই গত কয়েক বছর যাবত্ রমজানে মাসে ইফতারী বিক্রির জন্য অস্থায়ী দোকান বসান বাবুর্চি নাজেম আলী ও তার পুত্ররা। প্রথম বছরই দক্ষ বাবুর্চির হাতে তৈরি খাসির রান সাথে পরটা ও শাহী জর্দ্দা এবং ফিরনি বিক্রির ধুম পড়ে যায়। সুস্বাদু খাবার মন জয় করে নগরবাসীর। ভাল ইফতারীর সন্ধানে তারা ছোটেন নাজেম’স ইফতারি বাজারে। দোকানে পাওয়া যাচ্ছে খাসির রান, মুরগীর তৈরি রকমারী খাবারের সাথে পরটা, হালিম, চপ , পিয়াজু ও ছোলা বুটসহ নানান রকম ইফতারি। প্রবীণ বাবুর্চি নাজেম আলী নিজেই উপস্থিত থেকে তার দক্ষ কর্মী বাহিনীকে দিয়ে এ সব খাবার তৈরি করান বলে তার ছেলে ফরিদুর রহমান রেজা ইত্তেফাককে জানান। তিনি বলেন - তার বাবার তৈরি বিরানী নাজেম বিরিয়ানী অনেক আগে থেকেই এ অঞ্চলে ‘ব্রান্ড আইটেম’ হিসাবে সুনাম অর্জন করে। এরপর ভোজন রসিকদের কাছে অতি প্রিয় হয়ে উঠে নাজেম বাবুর্চির তৈরি করা ফিরনি। তাদের দোকানে আরও বিক্রি হচ্ছে মোরগ পোলাও, তেহারী, কাচ্চি বিরিয়ানি, মুরগী মোসাল্লাম, গরু ও মুরগীর মাংসের কালা ভুনাসহ। এ ছাড়াও পাওয়া যাচ্ছে বৃহত্ আকৃতির জামাই জিলাপি, চিকেন পুলি হরেক রকম চপসহ ইফতার সামগ্রী। ফরিদুর রহমান রেজা জানান- কোন প্রকার ফরমালিন বা ভেজাল উপাদান ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সু-স্বাদু খাবার তৈরি করে খ্যাতি পেয়েছেন তারা।
