পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের লাকসাম-চাঁদপুর রেলপথের রি-মডেলিং কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে দু’দফা সময় বাড়ানোর পরেও গত ৩ বছরে প্রকল্পের সিকি ভাগ সম্পন্ন হয়নি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, সুষ্ঠু তদারকির অভাব, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের চরম অবহেলার কারণে ১শ’ ৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে লাকসাম-চাঁদপুর ৫৫ কিলোমিটার রেলপথের রি-মডেলিং কাজ বন্ধ হয়ে গেছে।
জানা যায়, পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়েও গুরুত্বপূর্ণ রুট লাকসাম-চাঁদপুর লাইনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় তা সংস্কারের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ দরপত্র আহবান করে। ভারতের মেসার্স কালিন্দি রেল নির্মাণ ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড দরপত্রে কাজটি পায়। কিন্তু দরপত্রের শর্ত ভঙ্গ করে ওই কোম্পানি বাংলাদেশের আজমাইন ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামক অখ্যাত এক কোম্পানিকে এ কাজের সাব কন্ট্রাক দেয়। পরে আজমাইন ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি কাজটি শুরু করে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি অনুযায়ী এ কাজটি ২০১৩ সালের ৩০ জুন শেষ করার কথা। কিন্তু নানা অজুহাতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দু’দফায় কাজের মেয়াদ ৬ মাস করে এক বছর বৃদ্ধি করে এ বছরের ৩০ জুন কাজ সমাপ্ত করবে বলে অঙ্গীকার করে। বর্ধিত এ মেয়াদের আর মাত্র সপ্তাহখানেক সময় বাকী থাকলেও ৫৫ কিলোমিটার কাজের মধ্যে মাত্র ৬ কিলোমিটারে নতুন রেল লাইন বসানো হয়েছে, তাও আবার ট্রেন চলাচলের জন্য পুরোপুরি উপযুক্ত নয়। এ ৬ কিলোমিটার লাইনে নিয়ম অনুযায়ী পাথর ও প্যাকিং না দেয়ায় তাতে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন চলাচল করছে। এছাড়াও এ অংশে যে সকল পাথর ব্যবহার করা হয়েছে তা অধিকাংশ মৃত পাথর এবং দেড় ইঞ্চি হতে দু’ ইঞ্চি সাইজের পাথর দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হয়েছে ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি সাইজের পাথর। স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে, ওই কোম্পানি নিম্নমানের সরঞ্জাম দিয়ে এ লাইনে কাজ করছে। ইতিমধ্যে কিছু কিছু মালামাল রেল কর্তৃপক্ষ মান যাচাইয়ের জন্য বুয়েটে পাঠালে তা অতি নিম্নমানের হিসেবে চিহ্নিত করে তা বাতিলের সুপারিশ করে। এদিকে, এ কাজের নির্মাণ শ্রমিকদের ঠিকাদার কিশোরগঞ্জের মোঃ মোক্তার উদ্দিন জানান, তার শ্রমিকদের কাজের ১৮ লাখ টাকা বকেয়া পড়ায় তারা এখন কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বর্তমানে নির্মাণ কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
লাকসাম-চাঁদপুর রেললাইন রিমডেলিং প্রকল্প পরিচালক ও চট্টগ্রাম রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ আবিদুর রহমান ঠিকাদারের কাজের সময় বর্ধিতকরণ ও মেয়াদ শেষের কথা স্বীকার করে বলেন, কাজ কিছুটা কম হলেও প্রকল্পের মেয়াদে কাজ শেষ করা হবে। তিনি বলেন, ঠিকাদারের সাথে সম্পাদিত নির্দিষ্ট সময়ের চুক্তিপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তবে প্রকল্পের গ্যারান্টির মেয়াদ ২০১৫ সাল পর্যন্ত রয়েছে। এছাড়াও লাইনে ব্যবহূত নিম্নমানের পাথর ও সরঞ্জাম ব্যবহারের কথা স্বীকার করে বলেন, এগুলোর জন্য ঠিকাদারকে সতর্ক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আজমাইন ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা মেসার্স কালিন্দি রেল নির্মাণ ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড থেকে সাব কন্ট্রাক নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। তা শীঘ্রই শেষ হয়ে যাবে।
