ছাদে ফাটল, বিম ফেটে রড বেরিয়ে আছে, খসে পড়েছে দেয়ালের প্লাস্টার। ভল্ট কক্ষের দেয়ালের দুইপাশে ফাটল সৃষ্টি হওয়ায় টিন দিয়ে আটকে বসানো হয়েছে পাহারা। ভবনটির দরজা জানালা জরাজীর্ণ। বর্ষা হলেই ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে মেঝেতে রাখা মূল্যবান দলিলপত্র নষ্ট হচ্ছে। এরকম ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে সোনালী ব্যাংক গলাচিপা শাখার কার্যক্রম। যেকোন সময় ভবনটি ধসে পড়তে পারে। এর মধ্যেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে গ্রাহক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সোনালী ব্যাংক গলাচিপা শাখা অন্যত্র স্থানান্তরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন করেও কোন সুরাহা হয়নি। গলাচিপা শহরে সদর ইউপি’র নির্মিত ভবন ভাড়া নিয়ে ১৯৬৬ সাল থেকে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্বাধীনতা উত্তর ১৯৭২ সাল থেকে সোনালী ব্যাংক নামে দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে এ জরাজীর্ণ ভবনে ব্যাংকের কার্যক্রম চলছে। ভবন সংস্কারের প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থ না থাকায় সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ শাখা হতে উপজেলার সকল সরকারি-কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা, অবসর ভাতা, কল্যাণ ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা সম্মানি ভাতা ছাড়াও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিধবা, বয়স্ক, মাতৃত্বকালীন ভাতা, উপজেলার বেসরকারি সকল স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধ করা হয়।
গলাচিপা মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক হারুন অর রশিদ জানান, সরবরাহ অপ্রতুল হওয়ায় প্রায়ই টাকা পেতে অপেক্ষা করতে হয়। প্রায় প্রতিদিন পটুয়াখালী থেকে ও স্থানীয় অন্যান্য শাখা থেকে টাকা এনে গ্রাহকদের চাহিদা মাফিক টাকা পরিশোধ করা হয়। অথচ সোনালী ব্যাংক সকল ব্যাংকের ব্যাংকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এবং নগদ টাকার চাহিদা মেটায়। এক সময় এ ব্যাংকে পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা থাকত।
গত ১৩ জুন পূবালী ব্যাংক শাখায় ডাকাতির চেষ্টায় দুই ডাকাত আটক হয়। এতে উপজেলার বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলোর কর্মকর্তারা রয়েছে আতঙ্কের মধ্যে। গলাচিপা সোনালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দিন জানান, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাংক শাখায় সংঘটিত ডাকাতির কারণে ব্যাংকের ভল্টে সীমিত পরিমাণ নগদ টাকা সংরক্ষণে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ রয়েছে। তবে গ্রাহকদের সেবার মান বজায় রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা রয়েছে বলে তিনি জানান।
