বৃহত্তর ময়মনসিংহের মধুপুর গড় এলাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উত্পাদিত আনারস, কলা ও কাঁঠাল পাকানো ও সংরক্ষণে ক্ষতিকর হরমোন ও ফরমালিন ব্যবহূত হচ্ছে।
গড় এলাকার মধুপুর, ধনবাড়ি, মুক্তাগাছা, ফুলবাড়িয়া, ঘাটাইল, ভালুকা, সখিপুর ও জামালপুর সদর উপজেলায় এবার ২৮ হাজার একরে আনারস, ২০ হাজার একরে কলা, ১৫ হাজার একরে কাঁঠাল এবং ৬ হাজার একরে পেঁপে, পেয়ারা ও হাইব্রিড আমের আবাদ হয়েছে। ফলের বাণিজ্যিক আবাদ পুঁজি করে কেমিক্যাল ব্যবসায়ীরা মে হতে সেপ্টেম্বর ফল বিকিকিনির মৌসুমে বিপুল পরিমাণ হরমোন ও ফরমালিন বাজারজাত করে।
টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ কৃষি অফিস জানায়, ঢাকার খামার বাড়ির ফিল্ড সার্ভিস উইংয়ের অনুমোদিত ২৭টি কেমিক্যাল কোম্পানির ৪৫ প্রকার হরমোন বাজারে পাওয়া যায়। শুধুমাত্র উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিদেশ থেকে আমদানির অনুমোদন দিলেও ৬টি কেমিক্যাল কোম্পানি হরমোন দিয়ে ফল পাকানো ও সংরক্ষণ কাজে ব্যবসায়ী ও মহাজনদের সাথে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। স্থানীয় কীটনাশক ও কেমিক্যাল ব্যবসায়ীরা জানান, ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও ইথোফনের উপাদানে তৈরি ৬ প্রকার হরমোন ফল পাকানোর কাজে ব্যবহূত হয়। পাকানোর পর এসব ফল দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য ফরমালিন সেপ্র করা হয়।
কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের এক হিসাবে দেখা যায়, মধুপুর, পঁচিশ মাইল, গারো বাজার, ইদিলপুর, চৌরাস্তা বাজার, সাগরদীঘি, জলছত্র, মোটের বাজার, আশ্রা বাজার, ধলাপাড়া, লেংডা বাজার ও দোখলা বাজারসহ শতাধিক ডিলারের দোকানে ফল পাকানোর মৌসুমে প্রায় ৭০ কোটি টাকার হরমোন বিক্রি হয়।
আউসনারার ফল চাষী আব্দুল হক জানান, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকার ও মহাজনরা বাগান অথবা হাটবাজার থেকে ফল কিনে ট্রাকে লোড করার পূর্বে ক্ষতিকর হরমোন সেপ্র করে। সেপ্র করা ফল ১৫/২০ ঘণ্টার মধ্যেই ফল পেকে টুসটুসে হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় দেয়া হয় ফরমালিন। ৪৫ বছরের অভিজ্ঞ আনারস চাষী ইদিলপুর গ্রামের আজগর মণ্ডল জানান, তরল কেমিক্যালে ভরা এসব হরমোনের বোতলের গায়ে বিষাক্ত শব্দ লেখা থাকে এবং এসব খুব সতর্কতার সাথে প্রয়োগ করার নির্দেশ দেয়া হয়।
