গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় ৩৩ জন কৃষক নয় বিঘা জমিতে চলতি বছর হাইব্রিড ডায়না জাতের গ্রীষ্মকালীন লাউ চাষে লাভবান হয়েছেন। ফলনও হয়েছে ভাল, বাজার মূল্যও বেশ চড়া। ফলে কৃষকদের কাছে এ জাতের লাউ চাষ অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় গোটা জেলার কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
উপজেলার দক্ষিণ ভাঙ্গামোড়, হবিবুল্যাপুর, পচার বাজার, ভাতগ্রাম, হামিন্দপুর, দামোদরপুর, বড় দাউদপুর, ছোট ছত্রগাছা, ছাইগাড়ী, বিষ্ণপুর, কেশালীডাঙ্গা ও প্রতাপ গ্রামে অসময়ের এ লাউ চাষে করা হয়েছে। এ জাতের লাউ চাষ পদ্ধতি জানতে ও বীজ সংগ্রহ করতে বিভিন্ন লোকজন লাউ চাষীদের বাড়িতে ভীড় করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান জানান, কৃষি বিভাগ চলতি বছর দ্বিতীয় শস্য বহুমুখিকরণ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ৩৩ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও অন্যান্য সাপোর্টসহ নির্ধারিত মূল্যে বীজ সরবরাহ করে। তিনি আরো জানান, সাধারণত উঁচু এলাকায় এই লাউ চাষ করতে হবে। এছাড়া ওই জমিতে সাথী ফসল হিসাবে আদা, ঝিঙ্গা, হলুদ, শাক চাষ করা যাবে।
দক্ষিণ ভাঙ্গামোড় গ্রামের কৃষক লাভলু মিয়া জানান, তার বাড়ির সামনে পরিত্যক্ত ৪০ শতক জমিতে এ লাউয়ের চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে মাত্র ১৬ হাজার টাকা। দেড় মাসের মধ্যে ফসল উঠতে শুরু করেছে। এ পর্যন্ত তিনি সাড়ে পনের হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। কোন দুর্যোগ না হলে আরো দেড় থেকে দুই লাখ টাকার লাউ বিক্রি করতে পারবেন। তিনি আরো জানান, লাউ চাষের সাথে একই জমিতে পুঁই শাক, ডাঙ্গা ও ঝিঙ্গা চাষ করেছিলেন। তা প্রায় ২৪ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন।
গাইবান্ধা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মীর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ লাউ চাষে কোন কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি। পোকা যাতে আক্রমণ না করে সে জন্য সেক্স ফেরোমন ট্রাপ ব্যবহার করা হয়েছে।
