রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস মাহে রমজানে দেশ, জাতি ও বিশ্বের সব মুসলমানদের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে গতকাল প্রথম জুমা আদায় করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। জুমার নামাজে রাজধানীসহ সারাদেশের মসজিদগুলোতে উপচে পড়া ভীড় ছিল। নামাজের খুতবায় রোজার গুরুত্ব ও তাত্পর্য সম্পর্কে বিশেষ বয়ান করেন খতিবরা। গতকাল জুমার নামাজের আজানের আগে থেকেই বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ রাজধানীর বড় মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতি শুরু হয়। নামাজের আগে কানায় কানায় ভরে যায় সব মসজিদ। অধিকাংশ মসজিদে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ছাদ, খোলা জায়গা কিংবা রাস্তায় দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজে বয়ান করেন খতিব অধ্যাপক মাওলানা মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। নামাজ পূর্ব খুতবায় তিনি রোজার গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, এই পবিত্র মাসে রহমতের ছায়ায় ঢাকা থাকে সারাবিশ্ব। পবিত্র এই মাসে এমন একটি রজনী রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। তাই বেশি করে কুরআন তেলাওয়াত, এবাদত-বন্দেগি, পরোপকারের মাধ্যমে এই পবিত্র মাসকে সম্মানিত করা উচিত। বিশেষ বয়ানের পর শুরু হয় জুমার খুতবা। নামাজের কাতার মসজিদ বাউন্ডারি ছেড়ে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটের রাস্তা পর্যন্ত গড়ায়। দুই রাকাত নামাজ আদায় শেষে শুরু হয় মোনাজাত। মহান আল্লাহর কাছে দেশ ও জাতির কল্যাণসহ বিশ্ব উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাতে শরিক হন হাজার হাজার মুসল্লি। মোনাজাতে তিনি বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য, সৌহার্দ্য এবং সুখ শান্তি কামনার পাশাপাশি আগামী রোজাগুলো সঠিকভাবে পালনের তওফীক দান করতে মহান স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে মুসল্লিদের গোনাহ মাফ ও যার যার সত্ ইচ্ছা পূরণে মহান রবের সাহায্যও কামনা করেন। এ সময় আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মসজিদ প্রাঙ্গণ। চোখের পানি ফেলে অঝোরে কাঁদেন মুসল্লিরা।
এদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বায়তুল মোকাররম এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুলিশ। মসজিদের চারিদিক রাখা হয় বিশেষ নজরদারিতে। রমজান ও জুমার দিনে বেশি নেকির আশায় রোজাদার ব্যক্তিরা বেশি করে দানখয়রাত করে থাকেন। এ লক্ষ্যে অনেকে গরিব অসহায় রোজাদারদের ইফতারও করিয়ে থাকেন। রমজান কোরআন নাজিলের মাস। তাই এ মাসে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা হয়ে থাকে। কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলতের বিষয়ে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি কোরআন শরিফ তেলাওয়াত করেন তাঁকে প্রতিটি হরফের বিনিময়ে ১০টি করে নেকি প্রদান করা হবে। রমজান মাসের প্রতিটি নেক কাজের বিনিময়ে ৭০ গুণ নেকি বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়।
