দল বেঁধে সেহরি করা রমজানে রাজধানীর মানুষের জীবনে যোগ করেছে এক নতুন অনুষঙ্গ। আর সে কারণে গভীর রাত জুড়ে রাজধানীর অনেক হোটেলই থাকে মানুষের আনাগোনায় সরগরম। ব্যস্ত জীবনে যেন বাড়তি আনন্দ নিয়ে আসে রাতের বেলা এই সেহরি করতে আসা মানুষদের মনে। পোলাও, কাচ্চি বিরিয়ানি, খাসির লেগ রোস্ট এবং রেজালা; চিকেন বিরিয়ানির গন্ধে মউ মউ করে ওঠে পুরানো ঢাকার অলিগলি।
রাত দুইটার পর থেকে এখানকার হোটেলগুলোতে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। সোডিয়াম লাইটের আলোয় পথে মোহময়তা মাখানো। হোটেলের সামনে মানুষের ভিড়, দল বেঁধে গল্পে মশগুল সবাই। হোটেলের ভেতরে মানুষের হাঁক-ডাক। ওয়েটারদের ব্যস্ত ছোটাছুটি, ঘুম ঘুম চোখে রোজাদারদের সেহরি খাওয়া- হোটেলগুলোতে বেশ ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্য ফুটিয়ে তোলে।
বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য এমনিতেই ঘরে ঘরে মানুষ জেগে থাকে। আর সেহরির সময় হলেই জমে ওঠে রাজধানীর হোটেল রেস্টুরেন্টগুলো। বনানী, গুলশান, উত্তরার অভিজাত এলাকার কিছু কিছু রেস্টুরেন্ট খোলা থাকে তবে মানুষের প্রধান আকর্ষণ থাকে পুরানো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রেস্টুরেন্টগুলোর প্রতি। হোটেল আল রাজ্জাক, স্টার, নান্না মিয়ার হোটেলেই মানুষের আনাগোনা বেশি। এছাড়াও নাজিম উদ্দিন রোড, নাজিরা বাজারেও রয়েছে ঐতিহ্যবাহী সব হোটেল।
রমজান সংযমের মাস, কিন্তু আনন্দ করতে তো কোন বাধা নেই। বন্ধুরা মিলে সেহরি করার সুযোগে যদি একসঙ্গে বসে আড্ডা মারা যায় সেই সুযোগটাকে তো কাজে লাগানোই যায়। সেই আড্ডার আকর্ষণে, আর মজার মজার খাবারের টানে সবাই এসে জড়ো হন রেস্টুরেন্টগুলোতে।
বন্ধুদের সঙ্গে সেহরি করতে এসেছেন মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা হাসনাহেনা বারী। তিনি বললেন, এই গভীর রাতে ঢাকা শহরে কখনোই বের হইনি। আমরা সেহরি করার আগে প্রথমে পুরো ঢাকা শহর, ফ্লাইওভার ঘুরে এরপর এসেছি সেহরি করতে। এটা আমার জন্য খুবই আনন্দের স্মৃতি হয়ে থাকবে।
বনানী থেকে নওয়াবপুরের হোটেল আল রাজ্জাকে সেহরি করতে এসেছে ২০/২৫ জনের একটি দল। জায়গা নেই তাই বাইরে অপেক্ষা করছেন তারা। এই গ্রুপের সানি বললেন, দুই দিন খেলা নেই সেইজন্য হুট করেই আমরা চলে এসেছি। কোন পূর্ব প্রস্তুতি ছিল না। ফোনে ফোনে যোগাযোগ। ভালই লাগে এইভাবে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিতে আর সেহরি খেতে। শুধু বন্ধুরাই নয়, পরিবারের সদস্যদের নিয়েও চলে এসেছেন অনেকে, দিনভর রোজা রাখার পর সুস্বাদু খাবারের খোঁজে।
দুপুর বারোটার পর থেকেই আনাগোনা বাড়তে থাকে হোটেলগুলোতে। তবে আসল চাপটা আসে রাত দুইটা থেকে আড়াইটার মধ্যে- বলছিলেন রাজ্জাক হোটেলের ম্যানেজার। তিনি বললেন, এখনো মানুষের চাপ তেমন বাড়েনি। প্রথমত বিশ্বকাপ ক্রিকেট চলছে, দ্বিতীয়ত মাসের শুরু, সবাই বেতন পায়নি। দশ রোজার পর থেকেই মানুষের চাপ বাড়ে। চলে চান রাত পর্যন্ত।
