অনেক কর্মীই মাঝে মাঝে আক্ষেপ করে বলে থাকেন যে, অফিসের নিয়মনীতি অন্য সবার জন্য প্রযোজ্য হলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসবের ঊর্ধ্বে। আর কথার কথা হিসেবে বলা এই কথাটা যে নেহাত বানোয়াট কোনো ধারণা নয় সেটিই আরও একবার প্রমাণিত হলো নরওয়ের ইউনিভার্সিটি অব বারগেন পরিচালিত এক গবেষণায়। প্রায় এগারো হাজার অফিস কর্মীর ওপর পরিচালিত এই জরিপে দেখা যায় যে, অফিস সময়ে কর্মীদের ফেসবুক ব্যবহার করা নিয়ে যারা বেশি সোচ্চার সেইসব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাই আদতে এভাবে ফেসবুক ব্যবহার করেন বেশি। শুধু তাই নয়, কাজের সময় কাজ ফেলে ব্যক্তিগত কাজে ওয়েব ব্রাউজিং নিয়ে যারা সবসময় নেতিবাচক মনোভাব দেখান তারাই এ ধরনের কাজ বেশি করে করেন বলে জানিয়েছেন এই গবেষণার অন্যতম গবেষক সেসিল অ্যান্ড্রেয়াসেন। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন সাইটের প্রতি বসদের আসক্তি খুঁজে বের করার পাশাপাশি চমকপ্রদ আরও কিছু তথ্যও উঠে এসেছে ইউনিভার্সিটি অব বারগেনের এই গবেষণায়। গবেষকরা দেখেছেন, প্রযুক্তির আর দশটা অনুষঙ্গের মতো সামাজিক যোগাযোগের প্রতিও তরুণদের আগ্রহ প্রবীণদের চাইতে বেশি। অর্থাত্ অফিসের সময় সাধারণত তরুণ কর্মীরাই তাদের প্রবীণ সহকর্মীদের চাইতে তুলনামূলক বেশি সময় ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ওয়েব ব্রাউজ করেন। অন্যদিকে কাজের সময় নারীদের তুলনায় পুরুষরা তুলনামূলক বেশি মাত্রায় ব্যক্তিগত কাজে ফেসবুক ব্যবহার করেন এবং উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগে সক্রিয়তাও বেশি পরিলক্ষিত হয়। এ ছাড়া গবেষণায় পাওয়া আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো মানুষের সম্পর্কের ধরনের সাথে তার ফেসবুক ব্রাউজ করার সম্পর্ক। এতে দেখা যায়, যারা সামাজিক যোগাযোগের সাইটে নিজেদের রিলেশনশিপ অংশে ‘ইন এ রিলেশনশিপ’ ক্যাটাগরিটি নির্বাচন করেন তাদের চেয়ে একাকী ও বহির্মুখী স্বভাবের মানুষেরা সামাজিক যোগাযোগের সাইটে বেশি সক্রিয় থাকেন।
