যমুনার অব্যাহত ভাঙ্গন থেকে কাজীপুর রক্ষায় উপজেলার মাইজবাড়ি থেকে সিমলা পর্যন্ত ১৭ ব্লকে ভাগ করে ২০০৯-২০১০ অর্থ বছর থেকে তীর সংরক্ষণ কাজ শুরু হয়। এর অংশ হিসাবে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দে সাত নং ব্লকের ৫০০ মিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ পায় জেসিএফ ইউজেবি নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
কাজীপুর উপজেলার যমুনা নদীর পশ্চিম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজের সাত নং ব্লকের জিওব্যাগ ড্যাম্পিংয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে কাজটি এক ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ের কয়েক মাস পরে কাজ শুরু করে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ৭নং ব্লকে কয়েকজন শ্রমিক পাটক্ষেতের আড়ালে নৌকা লাগিয়ে ড্যাম্পিংকৃত জিওব্যাগ তুলে সেলাই খুলে বালি ফেলে পুনরায় ব্যবহারের জন্য ব্যাগগুলো খালি করছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারের লোক আফসার জানান, বস্তাগুলো ভরে ড্যাম্পিংয়ের জন্য রেখে দেয়া হয়েছিল। হঠাত্ যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বস্তাগুলো তলিয়ে যায়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তলিয়ে যাওয়া ব্যাগগুলো হিসাবে না ধরার কারণে লোকসান ঠেকাতে বস্তাগুলোর বালি অপসারণ করা হচ্ছে। এ সময় দেখা যায় উত্তোলনকৃত বস্তাগুলোর গায়ে গণনার চিহ্ন রয়েছে। শুধু তাই নয়, ধূলোবালিতে ভরা পাথর দিয়ে তৈরি হচ্ছে বোল্ডার।
সিরাজগঞ্জ পাউবো’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী কেএম ফজলুল হক বলেন, কোনভাবেই পানিতে ফেলা বস্তা উত্তোলনের বিধান নেই। এমনটি ঘটে থাকলে সেটা ঠিক হয়নি। এ সময় তিনি কাজের সময় কার্য সহকারী শহিদুল ইসলাম কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়টি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, গুরুত্বপূর্ণ এ ব্লকের কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এখানে অবস্থিত সরকারি খাদ্য গুদাম, থানা, ইউপি ভবনসহ পুরো এলাকা হুমকির মুখে পড়বে।
