মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সবসময়ই অভিবাসীদের দেশ। তিনি বলেন, দুই ডজনেরও বেশি বিদেশি বংশোদ্ভুত সামরিক সদস্য যারা এখানকার নাগরিক হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র আজ বিশ্বের কাছে অভিবাসীদের আবাসস্থল হিসাবে তার নাম লিখিয়েছে। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কতিপয় সেনাসদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠানে বারাক ওবামা এ কথা বলেন। —খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেদেশের অভিবাসীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, তারা আমাদের জীবনের চলার পথে একটা কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নতুন অভিবাসীদের জন্য নতুন নীতির প্রয়োজনীয়তার কথা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আজকের আমেরিকা আমাদের সকলের শ্রমের ফসল। সকলের মেধা, শ্রম ও অভিজ্ঞতায় এ দেশ শক্তিশালী হয়েছে। কিন্তু সময় এসেছে পুরনো নীতির পরিবর্তন এনে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের কাছে সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে এ ধরিত্রীতে সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি হিসাবে প্রমাণ করতে হবে। ‘অভিবাসীদের স্বাগতম’ -এ ধারণাকে সামনে রেখে তাদেরকে আমাদের চলার পথে কেন্দ্র বলে বিবেচনা করতে হবে। কেননা তারা আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে গেছে। তারা আমাদের ডিএনএ।
ওবামা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আমাদের নতুন কিছু উপহার দিতে হবে। আমাদের ভেঙ্গে পড়া অভিবাসন নীতিকে শুধরে নতুন নীতি প্রণয়ন করতে হবে। তিনি বলেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ডেপুটি সেক্রেটারি আলেজান্দ্রো মেয়রকাস কিউবা থেকে এসেছেন। ১৯৭৩ সালে তিনি এদেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন। এসব কথা বলার পাশাপাশি ওবামা রিপাবলিকানদের দোষারোপ করে বলেন, লাখ লাখ লোক এখনো যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে রয়েছে, তাদের ব্যাপারে তারা ঢিলেঢালা পথ অবলম্বন করছেন। সিনেটে গত গ্রীষ্মে এ বিষয়ে পাস করা একটি বিল এই নেতাদের কারণে আটকে যায়। ওবামা বলেন, এসকল পরিস্থিতিতে আমরা অধিক কার্যকর ও সর্বোত্কৃষ্ট একটা অভিবাসন নীতি করবো যা সকলের জন্য কল্যাণকর হবে।
এদিকে রিপাবলিকানরা বলছেন, অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা লোকজনকে বৈধতা দেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কেননা আইনের লঙ্ঘন করে কোন কিছুকে উত্সাহিত করার পক্ষে তারা নেই।
