মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে জার্মানি

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৪, ২১:০৯
যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে নিজ দেশের এক গোয়েন্দাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে জার্মানি। এই ঘটনার সূত্র ধরে বার্লিনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে শুক্রবার ডেকে পাঠিয়েছে জার্মান কর্তৃপক্ষ। জার্মান ফেডারেল প্রসিকিউটরস কার্যালয় বলেছে, বিদেশি গুপ্তচর সংস্থার হয়ে কাজ করছে সন্দেহে এক জার্মান নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত লোকটি জার্মানির রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বুনদেসনাখরিখতেনদিয়েস্ত— সংক্ষেপে বিএনডি’র সদস্য। তার বয়স ৩১। অর্থের বিনিময়ে জার্মানির গোপন নথি যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করার অভিযোগ ওঠার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে গ্রেপ্তারের এই খবরটি জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল এবং পার্লামেন্টকে অবহিত করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জার্মানির দু’জন এমপি নিশ্চিত করেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তি দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা ডমেস্টিক ইন্টেলিজেন্স এজেন্সিতে (বিএনডি) কাজ করতেন। ঐ ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) গুপ্তচারবৃত্তি নিয়ে জার্মান পার্লামেন্টের নয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটির কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাচার করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এনএসএ জার্মানির চ্যান্সেলর মার্কেলসহ বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর নেতাদের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে বলে গত বছর খবর ফাঁস করেন এনএসএ’র সাবেক কর্মী অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেন। এ ঘটনার পর ওবামা ও মার্কেলের মধ্যে মিত্রতার সম্পর্ক শীতলতায় রূপ নেয়। দুই দেশের মধ্যে নজরদারি বিরোধী চুক্তি সম্পাদনের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। কিন্তু নতুন করে গুপ্তচরবৃত্তির এই অভিযোগ মিত্রদেশ দু’টির সম্পর্ককে আবারও তিক্ততায় পরিণত করে তুলতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। সামপ্রতিক এই গুপ্তরচরবৃত্তি নিয়ে মার্কেলের একান্ত মুখপাত্র স্তিফেন সিবার্ত বলেছেন, ‘সন্দেহ নেই ব্যাপারটি গুরুতর।’ জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই গুপ্তচরবৃত্তির এই বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফেডারেল প্রসিকিউটরের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি তদন্তে বার্লিনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন বি. এমারসনকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ঐ ঘটনাটি স্পষ্ট করতে সহযোগিতার জন্য তাকে বলা হয়েছে।