সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ পাটকেলঘাটা মধু সড়কটি কয়েক বছর যাবত্ ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অধিক মালবাহী পরিবহন চলাচলের কারণে বড় বড় খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়কটি।
ফলে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে তেমনি এলাকার উত্পাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাতসহ দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় পাঠানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সড়কটির অধিকাংশ স্থানে বড় বড় খানা-খন্দের সৃষ্টি হওয়ার কারণে যে কোন মুহূর্তে প্রাণহানির মত মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
১৯৮৮ সালে তত্কালীন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ভুঁইয়া রফিউদ্দীন আহম্মদ মাইকেল মধুসূদন দত্তের নামানুসারে পাটকেলঘাটা হতে কেশবপুর পর্যন্ত সড়কটি মধু সড়ক নামকরণের মাধ্যমে পিচ ঢালাইয়ের উদ্বোধন করেন। সেই থেকে সড়কটির কয়েক অংশে ভাগ করে প্রতি অর্থবছরে কাজ সম্পন্ন করা হয়। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দিয়ে সাতক্ষীরা, যশোর, খুলনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের যাত্রীবাহী বাস,মালবাহী ট্রাক, প্রাইভেট কার, নসিমন, করিমন, মটর সাইকেল, পিকআপ, ট্রলিসহ বিভিন্ন প্রকার যানবাহন প্রতিনিয়ত চলাচল করে থাকে। গত ৭/৮ বছর যাবত্ কপোতাক্ষের উপচেপড়া পানি ও জলাবদ্ধতার কারণে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের মির্জাপুর হতে নওয়াপাড়া পর্যন্ত ডুবে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
প্রতি বছর ৩/৪ মাস মহাসড়কটি জলমগ্ন থাকায় পণ্যবাহী ট্রাক, ঢাকাগামী পরিবহনসহ সকল প্রকার পরিবহন মধু সড়ক দিয়ে চলাচল করে। চলতি বর্ষা মৌসুমে বর্তমানে এ সড়কটির অবস্থা একেবারে নাজুক। প্রায়ই সড়কের পাশে পণ্যবাহী পরিবহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়া এ অঞ্চলের কৃষক ব্যবসায়ী শ্রমিকদের জীবন জীবিকার অন্বেষণ এই সড়কের সাথে জড়িত। ভাঙ্গা সড়কটি দিয়ে প্রতিনিয়ত স্কুল কলেজগামী শত শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হয়।
সড়কটির বেহাল দশার কারণে স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গেলে অভিভাবকদের দিনভর উত্কণ্ঠায় থাকতে হয়। এ অঞ্চলের কৃষকদের কৃষি পণ্য পরিবহনে মাত্র ৪ কিঃমিঃ পথ অতিক্রম করে বাজারে পৌঁছাতে হিমশিম খেতে হয়। অনেকে সড়কের বেহাল দশার কারণে সময়মত পণ্য বাজারে না পৌঁছাতে পেরে কম মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। বর্ষার শুরুতে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে চলাচল একেবারেই চরমে উঠেছে।
