রাজশাহীতে জমে উঠেছে ঈদের বেচাকেনা

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৪, ২১:৫০
রমজানের শুরুতেই রাজশাহীতে জমে উঠেছে ঈদের বেচা-কেনা। নগরীর সাহেব বাজার, আরডিএ মার্কেট, নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। বড় মার্কেট, বিপণিবিতান এমনকি ফুটপাত কোথাও ক্রেতার কমতি নেই। এক দোকান থেকে আরেক দোকান ঘুরে ক্রেতারা কেনাকাটা সারছেন। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, এবার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকায় ব্যবসা ভালো হবে। রোজা শুরুর প্রথম থেকেই এবার কেনাকাটা শুরু হয়েছে। শুক্রবার ছুটির দিনে নগরীর প্রতিটি মার্কেটে লক্ষ্য করা গেছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। বিক্রেতারা জানালেন, রমজানের শুরু থেকেই বিক্রি শুরু হলেও শুক্রবার থেকে বেচাবিক্রি বাড়তে শুরু করেছে। এদিকে ঈদকে সামনে রেখে নগরীর বিভিন্ন মার্কেটের প্রতিটি দোকান সাজানো হয়েছে নতুন সাজে। রোজার আগেই ডিসকাউন্ট দিয়ে পুরনো কাপড় ও পোশাক বিক্রি করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে আনা হয়েছে রকমারি ডিজাইনের নতুন কাপড় ও পোশাক। আকর্ষণীয় ডিজাইনের পোশাক নজর কাড়ছে ক্রেতাদের। তাই প্রতিটি দোকানেই এখন ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। ফ্যাশন হাউসগুলো সেজেছে নতুন সাজে। গতকাল বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, আগের চেয়ে এবার বেড়েছে সব ধরনের সালোয়ার কামিজের সিট কাপড়ের দাম। শাড়ির দামও এবার বাড়তি। এবার ঈদকে সামনে রেখে বাজারে এসেছে কাতান, জামদানি, টাঙ্গাইল শাড়ির নতুন ডিজাইন। দাম একটু বেশি পড়লেও ক্রেতারা ভারতীয় শাড়ির পাশাপাশি ঝুঁকছেন দেশীয় শাড়ির প্রতি। আর সালোয়ার কামিজের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন টিভি সিরিয়ালের নামের বাহারি পোশাক। সাহেব বাজারের শাড়ি ব্যবসায়ীরা জানান, এবার শাড়ির মধ্যে সবচেয়ে বেশি চলছে কাতান। এছাড়া প্রচলিত দেশি শাড়ির পাশাপাশি বাজারে চাহিদা রয়েছে বেনারসি কাতানের। ভিড় বেড়েছে নগরীর সিল্ক পল্লীতেও। বিসিক এলাকার সিল্কের দোকানগুলোতে এখন উপচেপড়া ভিড়। এবার তৈরি পোশাকের মার্কেট দখলে রেখেছে ভারতীয় টিভি সিরিয়াল আর চরিত্রের নামের নানা পোশাক। ছোট মেয়েদের এসব পোশাক ৩৫শ’ থেকে ৫৫শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড়দের পোশাক বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকায়। ছেলেদের শার্ট বিক্রি হচ্ছে ১২শ’ থেকে ২ হাজার টাকায়। এছাড়া ছেলেদের টি শার্টের তালিকায় যুক্ত হয়েছে বিশ্বকাপের খেলোয়ারদের নাম। নগরীর আরডিএ মার্কেটের ব্যবসায়ী আবিদ হাসান বলেন, এবার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকায় ভালো ব্যবসার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। রমজানের শুরুতেই বেচাকেনা শুরু হয়েছে। তবে ১০ রোজার পর সরকারি-বেসরকারি কর্মজীবীদের সকলের বেতন-বোনাস হয়ে গেলে বেচাকেনা আরও জমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। দর্জি ও থান কাপড়ের দোকানে ভিড় ঈদ-উল ফিতরের দিন যতোই ঘনিয়ে আসছে, ততোই দর্জিদের কাজের চাপ বাড়ছে। কাজের চাপে নাওয়া খাওয়া ভুলে বিরামহীন কাজ করছে দর্জিরা। সারারাত কাজের চাপে তারা ঠিকমত ঘুমাতেও পারছেন না বলে জানা গেছে। অনেক দর্জির দোকানে ১৫ রমজানের পর অর্ডার বন্ধের সাইনবোর্ড টাঙ্গানো হয়েছে। দর্জিপাড়ার পাশাপাশি জমে উঠেছে থান কাপড়ের দোকানের ব্যবসা। বিশেষ করে মেয়েদের থ্রি-পিস এবং ছেলেদের শার্ট প্যান্টের কাপড়ের দোকানের ভিড় চোখে পড়ার মত।