ব্রিটেনে বাঙালি তরুণসহ তিনজনের সম্পদ বাজেয়াপ্ত

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৪, ২১:৫১
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়া এবং অর্থায়নের দায়ে রুহুল আমিন নামে এক বাঙালি তরুণসহ তিনজনের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ব্রিটিশ সরকার। সন্ত্রাসবাদে জড়ানোর দায়ে আর্থিক নিষেধাজ্ঞার শিকার হওয়া রুহুল আমিন প্রথম কোনো বাঙালি। অন্য দুই তরুণ হল নাসির মুথানা (২০) এবং রিয়াদ খান (২০)। রুহুল আমিনের নাগরিকত্বের পরিচয় হিসেবে উল্লেখ আছে বাংলাদেশি এবং ব্রিটিশ। বাংলাদেশে রুহুল আমিনের বাড়ি সিলেটের মৌলভীবাজার জেলায়। সে স্কটল্যান্ডের এভারডিনের বাসিন্দা। গত শুক্রবার ব্রিটিশ ট্রেজারি বিভাগ এই তিনজনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এ তালিকায় সর্বমোট ২৫ জন ব্যক্তি এবং ২৭টি সংগঠনের নাম রয়েছে। এদের বেশির ভাগই ইসলামিক উগ্রপন্থার সাথে জড়িত বলে অভিযোগ। এই তিন তরুণ সিরিয়া কিংবা ইরাকে সুন্নী বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘ইসলামিক স্টেইট অব ইরাক এন্ড সিরিয়া’ (আইসিস) এর পক্ষে লড়াই করছে বলে ধারণা। ইন্টারনেটে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, আইসিস বিদ্রোহীদের পোশাক পরিহিত এবং ভারী অস্ত্রধারী এই তিন যুবক নিজেদের জিহাদী দাবি করে ব্রিটিশ মুসলিম তরুণদের সিরিয়া এবং ইরাকের তথাকথিত জিহাদে অংশ নিতে আহবান জানাচ্ছে। গত বুধবার নাসির মুথানার ছোট ভাই আসীল (১৭) বিবিসি রেডিওকে দেয়া সাক্ষাত্কারে বলেন, সে নিজেও সিরিয়ায় ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করছে। পরদিন নাসির মুথানার নামে একটি ফেইসবুক একাউন্টে দেখা যায়, একটি ঘরে হাতে তৈরি প্রায় ১৫টি বোমার পাশে সে দাঁড়িয়ে আছে। এসব ঘটনার পরদিনই ব্রিটিশ সরকার তিন তরুণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সিরিয়ায় তথাকথিত জিহাদে অংশ নেয়া রুহুল আমিন তৃতীয় বাংলাদেশি তরুণ। এর আগে ইফতেখার জামান এবং মাসুদুর চৌধুরী নামে দুই বাঙালি যুবকের সিরিয়া যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ইফতেখার জামান কয়েক মাস আগে লড়াইয়ে নিহত হয়েছে বলে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা। আর মাসুদুর চৌধুরীকে সিরিয়া থেকে ফিরার পথে গ্রেফতার করা হয়। এরা দুজনই ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথের বাসিন্দা এবং পরস্পর বন্ধু ছিল। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা ‘এমআই সিক্স’ এর মতে ৫ শতাধিক ব্রিটিশ মুসলিম সিরিয়া এবং ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন মুসলিম তরুণদের এমন প্রবণতাকে ব্রিটেনের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি বলে আখ্যায়িত করেছেন। ইতোমধ্যে ব্রিটিশ সরকার তথাকথিত জিহাদিদের ব্রিটেনে ফেরামাত্র গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে। এসব উগ্রপন্থী তরুণদের নিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম এবং রাজনীতিকদের একের পর এক আলোচনা ব্রিটেনের মুসলিম কমিউনিটিকে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে। মুসলিম কমিউনিটির নেতারা মুসলিম তরুণদের তথাকথিত জিহাদে না জড়ানোর অনুরোধ করে বিবৃতি দিয়েছেন। মসজিদগুলোতেও বলা হচ্ছে, মুসলিমরা যাতে সকল উগ্রপন্থা থেকে বিরত থাকে।