রাজধানীর অন্যতম দৃষ্টিনন্দন স্থান হাতিরঝিলের চারপাশের ৩০০ মিটার এলাকায় স্থাপনা তৈরি করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পৃথক অনুমোদন নিতে হবে। এ জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া হাতিরঝিলের সৌন্দর্য রক্ষায় প্রকল্পের সমন্বয়ক ড. মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে স্থাপনা বা কাঠামো নির্মাণের জন্য আগের নিয়মেই আবেদন করা যাবে। পরে তা কর্তৃপক্ষ হাতিরঝিলের সৌন্দর্য রক্ষায় গঠিত কমিটির মাধ্যমে অনুমোদন দেবে। ইতিমধ্যে যারা এই নিয়ম ভঙ্গ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও সেনাবাহিনীর হাতিরঝিলের দায়িত্বে নিয়োজিত ইঞ্জিনিয়ারিং কোর।
উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া ইত্তেফাককে বলেন, বেশ কিছু বিষয় মাথায় রেখেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। হাতিরঝিলের চারপাশ ঘিরে অবৈধ কাঠামো উচ্ছেদে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। অভিযানে ইতিমধ্যে শতাধিক স্থায়ী কাঠামো ভাঙ্গা হয়েছে।
হাতিরঝিলের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আরেফুর রহমান বলেন, যেহেতু হাতিরঝিল একটি দৃষ্টিনন্দন স্থান তাই এর সৌন্দর্য রক্ষায় বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে মতামতের জন্য কনসালট্যান্ট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আর তাঁদের কাজ ও সামগ্রিক বিষয় মনিটরিংয়ের জন্য তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে আছেন- প্রকল্পের সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মজিবুর রহমান, অধ্যাপক ইশরাত আরা, পূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আরিফুর রহমান, স্থপতি ইকবাল হাবিব ও মেজর শাকিল। প্রাথমিকভাবে কমিটির মতামতের ওপর ভিত্তি করে হাতিরঝিলের ৩০০ মিটারের মধ্যে কাঠামো করতে হলে সংশ্লিষ্টদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জি এম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া ইত্তেফাককে বলেন, হাতিরঝিল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার পর থেকে কয়েক মাসের ব্যবধানেই রাস্তার পাশের বাড়িগুলোতে দেয়াল কেটে ছোট-বড় রেস্টুরেন্ট করা হয়েছে। আবার বেশিরভাগ ভবনের ছাদেই বসানো হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ বিলবোর্ড। হাতিরঝিলের সৌন্দর্যের বিঘ্ন ঘটবে এমন কোনো কাঠামোর অনুমোদন দেয়া হবে না। আর যারা নিজেদের ইচ্ছামাফিক কাঠামো বসিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রাজউকের অথরাইজড অফিসার-৪ এ কে এম ফজলুল রহমান বলেন, এ বিষয়ে মাইকিং করে কাঠামোগুলো নিজ দায়িত্বে সরিয়ে ফেলার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। প্রয়োজনে অভিযান চালিয়ে তা সরানো হবে।
স্থপতি অধ্যাপক সামসুল ওয়ারেস বলেন, অপরিকল্পিত বিলবোর্ড শহরের সৌন্দর্য অনেকাংশে নষ্ট করেছে। এখন ব্যবসায়ীদের নজর পড়েছে হাতিরঝিলের ওপর। এই প্রকল্প এলাকার অপরিকল্পিত সব বিলবোর্ড ও অবৈধ কাঠামো এখনই অপসারণ করতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে নতুন করে এসব কাঠামো না বসে সে ব্যাপারেও উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
প্রকল্পের সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মজিবুর রহমান বলেন, হাতিরঝিলে গিয়ে দেখা যায়, চারপাশে প্রচুর দোকান আর বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় এসব বিলবোর্ড ও কাঠামো থাকার কোনো সুযোগ নেই। ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যানে (ড্যাব) এ প্রকল্পের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও সার্বিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে বিস্তারিত বলা হয়েছে। এ ছাড়া বিষয়টি দেখভালের জন্য রয়েছে পৃথক কমিটি।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহা বলেন, হাতিরঝিল এলাকায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে একটি বিলবোর্ডেরও অনুমোদন দেয়া হয়নি। আমরা এসব অবৈধ বিলবোর্ডের বিরুদ্ধে শিগগির অভিযান পরিচালনা করব।
