কলম্বিয় ডিফেন্ডার হুয়ান জুনিগারের ফাউলে পিঠের হাড়ে আঘাত পেয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন ব্রাজিলের সবচাইতে বড় তারকা নেইমার। তবে ২২ বছরের তারকাটি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে দলের সাথেই রিও ডি জেনিরোতে ফিরে আসেন। এরপর একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে দলের অনুশীলন ক্যাম্প টেরেসাপোলিসের নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে হাসপাতাল থেকে ফিরে এলে তাকে বীরোচিত সংবর্ধনা দেয় সতীর্থরা। অ্যাম্বুলেন্সে ওঠার সময় আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়।
নেইমারের আর বিশ্বকাপে খেলা হবে না। কেননা এক্সরেতে দেখা গেছে তার পিঠের হাড়ের একটি অংশ ভেঙ্গে গেছে। তবে তিনি জার্মানির বিরুদ্ধে আগামী মঙ্গলবারের খেলাটি পর্যন্ত দলের সাথে অবস্থান করবেন কিনা জানা যায়নি।
গত শুক্রবার রাতে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ২-১ গোলের জয়ের পর ফোর্তেলোজার স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে সমর্থকরা সেমিফাইনালে উঠার আনন্দে যখন উল্লাস করতে করতে বাড়ি ফিরছিলেন সেসময়েই তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ব্রাজিল দলের ডাক্তাররা জানিয়ে দেন নেইমারের আর খেলা হচ্ছে না। তাকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেন চিকিত্সকরা। মেরুদন্ডের হাড় ভেঙ্গে গেলেও এখনই অপারেশন করাতে হবে না বলে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনকে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে তাকে নড়াচড়াহীন অবস্থায় থেকে সেরে ওঠার জন্য কয়েক সপ্তাহ কাটাতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই স্ট্রাইকার মাঠে না নামলে সেখানে তার জায়গায় খেলবেন হাল্ক। তবে হাল্ক বলেছেন, ‘এটা আমাদের দলের জন্য অনেক বড় দুঃসংবাদ। এমন পরিস্থিতি কেউ আশা করে না।’
কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ব্রাজিলের ম্যাচ জয়টা নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর, ৮৮ মিনিটে নেইমারকে মাঠ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেয়া হয়। জানা গেছে, এই সময় নেইমার স্ট্রেচারে শুয়ে কাঁদছিলেন।
নেইমার সেমিফাইনালে খেলতে পারবেন না, ব্রাজিল ফুটবল ভক্তদের জন্য একটা দুঃসংবাদই বটে। কোচ লুইস ফিলিপ স্কোলারি সেমিফাইনালে উঠেছেন। খুশি হয়েছেন। কিন্তু তার মুখে হাসি নেই। এমনিতেই দলের অধিনায়ক থিয়েগো সিলভা কলম্বিয়ার ম্যাচের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পাওয়ায় সেমিফাইনালে জার্মানির বিরুদ্ধে খেলতে পারবেন না। তার উপর দলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র নেইমারও সেমিফাইনাল ম্যাচের বাইরে। নেইমার না থাকা মানে ব্রাজিল ফুটবল শক্তি অর্ধেক কমে যাওয়া। থিয়েগো সিলভা না থাকা মানে রক্ষণে দুর্বলতা থাকা। তার উপর আক্রমণভাগে যদি নেইমার না খেলতে পারেন। তাহলে আক্রমণ ভাগও দুর্বল হয়ে যাবে একথা নিশ্চিত।
প্রিয় তারকা চোট পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন শুনে অনেকেই ছুটে গিয়েছিলেন ব্রাসিলিয়ার সাও কার্লোস হাসপাতালে। ফুটবল ভক্তরা যখন হাসপাতালে ভিড় করে, সেখানে পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। হাসপাতালের প্রধান দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। হাসপাতালের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড কিছু সময়ের জন্য স্থবির হয়ে পড়ে। ব্যাস্ততা বেড়ে যায়। নেইমারের শুভাকাঙ্ক্ষিরাও আসতে শুরু করেন। নেইমার ব্রাজিল ফুটবল দলকে গোল করে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। অসাধারণ ফুটবল খেলে ব্রাজিলের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন নেইমার। নেইমারের চোট পাওয়ার খবরে ব্রাজিল ফুটবল ভক্তরা মন খারাপ করে আছেন। অধিনায়ক নেই, স্ট্র্রাইকারও যদি না থাকে দলের আর কিছুই তো থাকলো না বলে মনে করছেন ফুটবল দর্শকরা। প্রার্থনা করছেন, দ্রুত সেরে উঠো নেইমার।
