উত্তরায় কলেজ ছাত্রী অপহরণ ইস্যুতে গোলকধাঁধায় পুলিশ

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৪, ২৩:০০
রাজধানীর উত্তরায় কলেজ ছাত্রীকে অপহরণের ঘটনা নিয়ে পুলিশের মধ্যে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। কারা তাকে অপহরণ করেছিল সে ব্যাপারে কোন তথ্যই জানতে পারেনি পুলিশ। উদ্ধার হওয়া কলেজ ছাত্রীর জিজ্ঞাসাবাদে বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে পুলিশ এখন বিষয়টি নিয়ে গোলকধাঁধায় পড়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার রুম্মন অপহরণে জড়িত ছিলেন কি-না এ ব্যাপারে পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি। পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার নিসারুল আরিফ জানান, কলেজ ছাত্রী ঘটনা সম্পর্কে অসংলগ্ন তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করছে। তাকে কে বা কারা অপহরণ করেছিল তা এখনো জানা যায়নি। গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে কলেজ ছাত্রীর তিনটি মেডিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। হাসপাতালের ওসিসি সূত্রে জানা গেছে, তার বয়স নির্ধারণ, ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এসব পরীক্ষার রিপোর্ট পুলিশের হাতে পৌঁছাতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে কালেজ ছাত্রীর ওপর নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে। কলেজ ছাত্রী পুলিশকে অসংলগ্ন তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। অপহরণের শিকার ঐ কলেজ ছাত্রী প্রথমে পুলিশকে বলেছিল, তাকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। আবার বলছে, যৌন নির্যাতন করা হয়নি। কখনও বলছে চোখ বাঁধা ছিল, কখনও বলছে চোখ খোলা ছিল। এতে করে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারছে না পুলিশ। তবে পুলিশ বলছে, মেয়েটির বন্ধু রুম্মন, উত্তরা মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থী অদ্রি ও ক্যাব্রিয়ান স্কুল এ্যান্ড কলেজ উত্তরা শাখার শিক্ষক বিপ্লবকে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অদ্রি ও বিপ্লবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়নি। উত্তরা মডেল থানায় দায়ের করা কলেজ ছাত্রীর মায়ের মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একাধিক ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এই কলেজ ছাত্রীর। ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষক মাহফুজ ও বিপ্লব, উত্তরার ব্যবসায়ী রুম্মন ও কলেজ ছাত্রীর সহপাঠী অদ্রির সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অন্য প্রেমিকদের ফাঁকি দিয়ে শেষপর্যন্ত মাহফুজের সঙ্গে তার বাগদান সম্পন্ন হয়। যদিও ঐ কলেজ ছাত্রীর বয়স ১৭ বলে দাবি করেছেন তার মা নূরুন্নাহার। নিজের ও পরিবারের পছন্দে ক্যামব্রিয়ান কলেজের শিক্ষক মাহফুজুল হকের সঙ্গে আংটি বদল হওয়ায় অন্যরা বিষয়টি মানতে না পারায় অপহরণের শিকার হয়েছিলেন ঐ কলেজ ছাত্রী। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর রোডের ৬ নম্বর বাড়ির সামনে ঐ কলেজ ছাত্রী অপহরণের শিকার হন। এসময় অপহরণকারীদের গুলিতে নিহত হন নিরাপত্তা প্রহরী লিয়াকত হোসেন লিটন। অপহরণকারীদের হামলায় গুরুতর আহত হন হবু স্বামী মাহফুজুল হক। পরে ৬ ঘণ্টা পর উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের একটি সড়ক থেকে অপহূতকে পুলিশ ও র্যাব উদ্ধার করে।