প্রতিবন্ধী শিখা জলদাস পড়া, হ্নীলা, টেকনাফ কক্সবাজারের বাসিন্দা। স্বামী বাজারের একটি সেলুনে কাজ করে। তাদের তিনটি মেয়ে সন্তান হওয়ায় তারা ছেলের আশায় আবার সন্তান নেন। কিন্তু এবার শিখার প্রসবে সাময়িক জটিলতা দেখা যায়। সে প্রসব ব্যথা নিয়ে মৌলভীবাজার সূর্যের হাসি ক্লিনিকে আসে। ২৪ ঘন্টার অধিক সময় কষ্ট করে অবশেষে আবারও একটি মেয়েসন্তান জন্ম দেয়। জীবন বাঁচায় প্রতিবন্ধী শিখা সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। আর ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক অজয় কুমার চৌধুরী তাদের বোঝান এবার তাদের স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। স্বামী দিলীপ দাস স্ত্রীর সম্মতি নিয়ে তারা স্থায়ী পদ্ধতির সিদ্ধান্ত নেয়। এটা শুধু শিখা বা দিলীপের বিষয় নয়। বাংলাদেশের অসংখ্য নর-নারী আজও ছেলের আসায় বহু সন্তানের জন্ম দেয়। সরকারের পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম এই অবস্থার পরিবর্তনে কাজ করছে। তবে বিজ্ঞজনেরা মনে করেন এখন দেশে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণে প্রচারণার অভাব আছে। আর মানুষ স্থায়ী পদ্ধতিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেনি।
ইউএসএইড ও ডিএফআইএর বৃহত্তম বিনিয়োগ দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে। এই প্রকল্পটি ২৬টি স্থানীয় এনজিও সূর্যের হাসি ক্লিনিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ৩৩০টি স্ট্যাটিক ক্লিনিক , ৮৮৩৮টি স্যাটেলাইট ক্লিনিক, ৬৩২০জন কমিউনিটি সেবা প্রদানকারীর মাধ্যমে দেশব্যাপী অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করছে। এই ক্লিনিক নেটওয়ার্কের আওতায় শহর এলাকায় ১৮৯টি ও গ্রাম এলাকায় ১৪১টি সূর্যের হাসি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করছে । ক্লিনিকগুলো ৫টি সেবাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী পরিবার পরিকল্পনা সেবা, মাতৃত্বজনিত স্বাস্থসেবা, পুস্টি, নবজাতকের যত্ন ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ। সূর্যের হাসি ক্লিনিকের এক তথ্যমতে- দেশে দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী পরিবার পরিকল্পনা সেবা গ্রহীতার হার মাত্র দশ শতাংশের নিচে এবং গর্ভকালীন সময়ে মায়েদের রুটিন চেক-আপ অপরিসীম হলেও ৫৪.৪ শতাংশ মা এই সেবার আওতায় আনেনি। তাই আমাদের এখনও অনেক কাজ করতে হবে।
