সা ফ ল্য

‘ওরা এখন আত্মনির্ভরশীল’

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৪, ২০:০১
১৯৭৪ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ আর বন্যা কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন ছাত্ররা। ১৯৭৭ সালে তাদের সেবামূলক কার্যক্রম প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়। মানবিক সাহায্য সংস্থা নামে এটি এক সময় নারীর ক্ষমতা বৃদ্ধি ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ১৯৮২ সাল থেকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে তারা বিশেষ ভূমিকা রেখে প্রশংসিত হয়। ক্রমেই গর্ভবতী ও প্রসূতি মা তাদের কাজের অন্তর্ভুক্ত হয়। এভাবে এক এক করে নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের সাথে যুক্ত হয়ে প্রতিষ্ঠানটি অর্জন করে ১৯৯২ সালে প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার ও ১৯৯৩ সালে টিভি করপোরেশন সম্মাননা। এবছর ১৪ জুন ৯ম সিটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে মানবিক সাহায্য সংস্থা। প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক এএনএমডি ইমাম হাসনাথ জানান, নারীর কর্মদক্ষতা ও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়। ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে আমি যোগ দেই। দিনে দিনে দেখি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে নারী কত বৃহত্ করতে পারে। দারিদ্র্য বিমোচনে আমরা ১৯৮৯ সাল থেকে নিয়মিত ঋণদান কার্যক্রম চালিয়ে নিয়ে যাই। চার বছরের এই প্রজেক্টের পরিবর্তন সত্যি শীর্ষণীয়। যা সম্ভব হয়েছে শুধুই নারীর ইচ্ছা ও কর্মদক্ষতার বলে। শুরুর দিকে আমি দেখেছি, নারীরা অনেক বিষয়ে পুরুষের ওপর নির্ভর করতো। আজ এত বছর কাজ করার পরে মনে হচ্ছে আমাদের দেশের নারীরা পুরোপুরি আত্মনির্ভরশীল হয়েছে। তারা আজ আর কোনো ব্যক্তি কেন্দ্রীক নয়। যে নারীরা শুধু গৃহস্থালির কাজে জড়িত ছিল। তারাই সংসারের আয়ের অন্যতম উত্স হচ্ছে। পরিবারে তাদের মূল্যায়ন হচ্ছে। সম্মানের জায়গাটাও অনেক বেশি। ফলে নিম্নবিত্ত নারী নির্যাতনও অনেক কমেছে। নারীর ঋণ গ্রহণে জামানত একটি বড় সমস্যা এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ১২ হাজারের অধিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা নারীকে বিনা জামানতে ঋণ দেই। নারী একটি ট্রেড লাইসেন্স হলেই সে আমাদের ঋণ পায়। ২০ হাজার টাকা থেকে ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ আমরা নারী উদ্যোক্তাদের দিয়ে থাকি। তবে আমাদের দেশে সমাজ আজও নারীকে পিছু টানে। সামাজিক বাধাই নারীর পথে অন্তরায়। তবে আমি আশাবাদী, সব বাধা পেরিয়ে বাংলাদেশ একদিন উন্নত দেশে পরিণত হবে আর এতে নারীর অনন্য ভূমিকা থাকবে।