কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীন কমপক্ষে ১৩টি কলেজ। কলেজগুলোর মধ্যে রয়েছে কুমিল্লা মহানগরসহ জেলা সদরে ৭টি, বরুড়ায় ১টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২টি, ফেনীতে ২টি ও নোয়াখালীতে ১টি। এসব কলেজে ২০১৪-’১৫ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে প্রকাশ্যেই ভর্তি চলছে। এসএসসি’র ফলাফলে প্রাপ্ত গ্রেড পয়েন্ট ও র্যাংকিংয়ের কারণে শহরের কাঙ্ক্ষিত কলেজে ভর্তি হতে না পেরে অনেক শিক্ষার্থী এসব কলেজে ভর্তি হচ্ছে। তবে এসব শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা তাদের ভবিষ্যত্ শিক্ষা জীবন নিয়ে উত্কণ্ঠায় রয়েছেন।
জানা যায়, কাম্য জনসংখ্যা, কলেজের সংখ্যা ও দূরত্ব এসব যাচাই-বাছাই না করেই বোর্ডের অধীন বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়ার গ্যারান্টিসহ পত্র-পত্রিকা, ক্যাবল টিভি, পোস্টার, লিফলেট, বড় আকারের ডিজিটাল ব্যানার টানিয়ে এবং বিভিন্ন চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আকৃষ্ট করে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাণিজ্য চালানো হচ্ছে। সূত্র জানায়, রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় আনাচে-কানাচে প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষক, বাণিজ্যিক বা আবাসিক ভবনের ছোট্ট পরিসরের খুপড়ি কক্ষে অনেকটা দমবন্ধ প্রতিকূল পরিবেশে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অনুমোদনবিহীন কলেজগুলো হচ্ছে-কুমিল্লা মহানগর কলেজ, কুমিল্লা মেট্রোপলিটন কমার্স কলেজ, ন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুমিল্লা রয়েল কলেজ, পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পাঠশালা কলেজ, ছোট তুলাগাঁও মহিলা কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজ্ঞান কলেজ, নবীনগর লাউর ফতেহ্পুর ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ কলেজ, নোয়াখালীর ন্যাশনাল মডেল কলেজ, ফেনী আইডিয়াল কলেজ ও ছাগলনাইয়া মহিলা কলেজ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ‘কুমিল্লায় প্রথম ডিজিটাল ক্যাম্পাস’ এমন চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে নগরীর প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড় এলাকার একটি বাণিজ্যিক ভবনে চলছে কুমিল্লা মহানগর কলেজ, ঝাউতলা এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে চলছে কুমিল্লা রয়েল কলেজ, শাকতলা এলাকার একটি ৫তলা বাণিজ্যিক ভবনের তৃতীয় তলায় কুমিল্লা মেট্রোপলিটন কমার্স কলেজের সাইনবোর্ড ঝুলছে।
বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইন্দু ভূষণ ভৌমিক বলেন, অনুমোদন না নেয়া কলেজগুলো কোন ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ভর্তি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছি। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল বলেন, অনুমোদনবিহীন কোন কলেজ শিক্ষার্থী ভর্তি করালে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
