অর্ধ লক্ষাধিক জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালীসহ প্রায় সাত লাখ লোকের জীবন-জীবিকার ভরসা বৃক্ষরাজি ও বিচিত্র প্রাণী নিয়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবন। ডাঙ্গায় বাঘ, জলে কুমীরসহ শত প্রতিকূলতার হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করা গেলেও বনদস্যু বা জলদস্যুদের হাত থেকে এসব কর্মজীবীর রেহাই নেই।
বনদস্যুদের অত্যাচারে সুন্দরবনে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। মুক্তিপণ ও চাঁদা ছাড়া বনে কাজ করা যায় না। ২৫ জলদস্যু বাহিনী সুন্দরবনে বিভিন্নভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। উজাড় হচ্ছে সুন্দরবন, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, বিচিত্র প্রাণী হারিয়ে বৈচিত্র্য হারাচ্ছে সুন্দরবন।
২৫ জলদস্যু বাহিনীর প্রধানদের মধ্যে সাবেক রাজু বাহিনী বর্তমান জাহাঙ্গীর ও ইলিয়াস, আমিনুর, জোনাব, খোকা বাবু, রবিউল, লাটুু, রেজা, ফরাদ, আনারুল, আলিফ, জিয়া, হযরত, মজিদ ও ইউছুপসহ অন্যান্য বনদস্যু বা জলদস্যু এখানকার জেলে, মৌয়ালী, বাওয়ালীদের অপহরণ ও চাঁদা আদায়সহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের সাথে জড়িত। প্রত্যেক বাহিনীর ৮ থেকে ৫০ জন্য সশস্ত্র সদস্য রয়েছে। তাদের রয়েছে অটোরাইফেল এবং এইট শুটার ও নাইন শুটারগানসহ ভারি অস্ত্র। এছাড়াও রয়েছে ফোর সিলিন্ডারের হাইস্পিড নৌযান। ২০০০ থেকে ২০১০ পর্যন্ত বাঘের আক্রমণে ৫১৩ মারা যান। আহত হয় ১২ জন। বাঘের থাবায় স্বামীহারাদের সাহায্যে লিডাসসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এগিয়ে এসেছে। ইতিমধ্যে লিডাস তিনটি ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে বাঘ বিধবাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার সকল খরচ বহন করছে। অনেক জেলে জানান, গত দেড়বছর ধরে বাঘ লোকালয়ে আসছে না।
বনের গভীরে গেলেও আগের মত বাঘ চোখে পড়ে না।
শ্যামনগর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি পুলিশের অভিযানে জলদস্যু আটক হয়েছে। সুন্দরবনকে জলদস্যু মুক্ত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। সাতক্ষীরা সহকারী বন কর্মকর্তা কেরামত আলী মল্লিক জানান, জনবল কম ও আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র না থাকায় বনদস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
৫টি নৌকা নিয়ে গেছে রবিউল বাহিনী
গত শনিবার রাত ২টায় পশ্চিম সুন্দরবনে মুক্তিপণের দাবিতে জেলেদের ৫টি নৌকা নিয়ে গেছে জলদস্যু রবিউল বাহিনী। পশ্চিম সুন্দরবনে উলুখালি খালে এ ঘটনা ঘটে।
ফিরে আসা জেলে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের পার্শ্বে খালি গ্রামের মুনছুর গাজীর ছেলে জলিল ও একই গ্রামের হাজী আব্দুর রহমান জানান, কৈখালি বন অফিস হতে পাসপত্র নিয়ে জেলেরা রাতে উলুখালি খালে মাছ ধরাকালিন জলদস্যু রবিউল বাহিনীর রোষানলে পড়ে জেলেরা নৌকা ফেলে বনের মধ্যে পালিয়ে যায়। এ সময় জলদস্যুরা নৌকাপ্রতি ৫ হাজার টাকা মুক্তিপণের দাবিতে জেলেদের ৫টি নৌকা নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত কালিন্দী নদী সংলগ্ন ভারতীয় অংশে হেতালবুনিয়া খালে আটকে রাখে।
