নিউইয়র্কে ইমেজ সঙ্কটে বাংলাদেশ সোসাইটি

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৪, ২২:০৩
প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটিকে ঐক্যবদ্ধ রেখে দেশের সঙ্গে প্রবাসের সেতুবন্ধন রচনায় যে সংগঠনটির অগ্রণী ভূমিকা রাখার কথা, কার্যকরী পরিষদের নির্বাচনের আগে ভোটার যোগাড়ের প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে সেই আমব্রেলা সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মকর্তারা তীব্র মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বর্তমান সভাপতি কামাল আহমেদ সোসাইটির অফিসের তালা পরিবর্তন করেছেন। চাবি না দেয়ায় অফিসে ঢুকতে পারছেন না সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম হাওলাদার। অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় সোসাইটি অফিসে নিয়োগ দেয়া হয়েছে প্রাইভেট সিকিউরিটি। গত কয়েকদিনে সংঘটিত নানান অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে অ্যামব্রেলা এই সংগঠনটি নতুন করে ইমেজ সঙ্কটে পড়েছে। যেসব বাংলাদেশি প্রবাসে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন তারা বাংলাদেশ সোসাইটির সদস্য হতে পারেন। কিন্তু এই সংগঠনটির সদস্যপদ গ্রহণ ও প্রদান নিয়ে নানান অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের পকেটের অর্থ খরচ করে প্রবাসীদের ভোটার করার প্রতিযোগিতায় নামেন। যে যত বেশি ভোটার যোগাড় করতে পারেন, নির্বাচনে তার ততো প্রভাব এবং জয়ের সম্ভাবনা থাকে। চলতি বছর এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে সঙ্কট। সোমবার সাবেক একজন সভাপতি একসঙ্গে সাড়ে তিনশ সদস্য আবেদনপত্রের অনুকূলে ফিস বাবদ ৭ হাজার ডলার চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে চাইলে বর্তমান সভাপতি কামাল আহমেদ সেখানে বাদ সাধেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেকের মাধ্যমে শুধু ব্যক্তিগত ও নিজ পরিবারের বাইরে সদস্যপদের ফিস পরিশোধের সুযোগ নেই। এর আগে কার্যকরী কমিটির একজন কর্মকর্তার একাধিক সদস্যপদের অনুকূলে জমা দেয়া চেকও ফেরত দেয়া হয়। জানা গেছে, সাড়ে তিনশ সদস্যপদের অনুকূলে ফিস বাবদ নগদ অর্থ না পেয়েও প্রতিটি আবেদনপত্রের মানি রিসিট ইস্যু করা হয়। কিন্তু সভাপতি কামাল আহমেদ তা স্থগিত রাখেন। তিনি চেক গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম হাওলাদার তা গ্রহণের অনুরোধ জানান এবং স্বপক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেন। এসময় সভাপতি জানান যে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। একপর্যায়ে এ নিয়ে কথা কাটাকাটিও হয় দুইজনের মধ্যে। আর এ ঘটনায় প্রকাশ্যে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে বর্তমান কার্যকরী কমিটি। সাধারণ সম্পাদক ও একজন কার্যকরী সদস্য ছাড়া অধিকাংশই সভাপতির সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তবে অন্য একটি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও অনেক আগে থেকেই একটা গুমোট পরিস্থিতি বিরাজ করছিল বাংলাদেশ সোসাইটিতে। সাবেক একজন সভাপতির ব্যাপক আধিপত্য ছিল কার্যকরী কমিটিতে। এ বিষয়টি অনেকেই ভালভাবে নেননি। দিন দিন কার্যকরী কমিটির উপর থেকে আধিপত্যের মেঘ কেটে যেতে শুরু করে। কার্যকরী কমিটির অধিকাংশ কর্মকর্তা সোসাইটিকে কার্যকর দেখতে ব্যক্তি বিশেষের আধিপত্যের জাল থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। এরই প্রতিফলন ঘটলো এবারের নির্বাচনের আগে সদস্য হওয়ার আবেদনপত্র জমা দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনায়। তবে বাংলাদেশ সোসাইটির সদস্যপদ গ্রহণ বা প্রদানের প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তুষ্ট নন সাধারণ প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞ মঈনুদ্দিন নাসের বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির গঠনতন্ত্র ত্রুটিপূর্ণ। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর সোসাইটির সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়, এরকম আজব গঠনতন্ত্র বিশ্বের আর কোথাও নাই। তিনি বলেন, সাধারণত কোনো সদস্য সংগঠনের চাঁদা পরিশোধ না করলে তার ভোটাধিকার না থাকতে পারে, কিন্তু একবার সদস্য হওয়ার পর নির্বাচন শেষ হলেই তিনি আর সদস্য থাকেন না এটা কোন্ ধরনের গঠনতন্ত্র?