মির্জাপুরে কলকারখানার দূষিত বর্জ্য খাল-বিলে, মহাসড়কে

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৪, ২২:০৪
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলের শতাধিক মিল কারখানার দুষিত বর্জ্য ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দুই পাশে ও মহাসড়কের উপর ফেলায় বর্জ্যের দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। পচা দুর্গন্ধে মহাসড়কের দুই পাশ দিয়ে হেঁটে চলাই দায় হয়ে পড়েছে।এ ছাড়া এই বর্জ্য স্থানীয় নদী ,পুকুর ও খাল-বিলের পানিতে মিশে পরিবেশকে আরও বিষিয়ে তুলেছে। অধিকাংশ মিলকারখানায় বর্জ্য শোধনাগারের জন্য ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ইটিপি) ব্যবস্থা না থাকায় দূষিত বর্জ্য নদী ও খাল-বিলের পানিতে পড়ে পানি দূষিত হয়ে মাছ মরে যাচ্ছে। সেই সাথে পচা পানির দুর্গন্ধ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকার গাছ-পালাও মরে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। গোড়াই শিল্পাঞ্চলের ১৫/২০টি গ্রামের ৩/৪ লাখ মানুষের বসবাস করা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সেই সঙ্গে মানুষের মধ্যে খোঁস-পাচড়াসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলার মধ্যে মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই এলাকা একটি শিল্প সমৃদ্ধ এলাকা। বর্তমানে এই এলাকায় ছোট বড় মিলে শতাধিক মিলকারখানা গড়ে উঠেছে। এদিকে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, দুই একটি প্রতিষ্ঠানে বর্জ্য শোধনাগারের জন্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট(ইটিপি) স্থাপন হলেও অধিকাংশ মিলকারখানায় বর্জ্য শোধানাগারের জন্য ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন হয়নি। ঐ সব কারখানার মালিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কলকারখানার দূষিত বর্জ্য ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপর ও দুই পাশে ফেলায় পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে। এগুলোর পচা দুর্গন্ধে রাস্তা দিয়ে লোকজন নাকে মুখে রুমাল দিয়েও হাটতে পাড়ছে না বলে অভিযোগ করেছে। আর এই সব বর্জ্য পানিতে মিশে বিষাক্ত হয়ে মাছ মরে যাচ্ছে। সেই সাথে পচা দুর্গন্ধ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে এলাকায় বসবাস করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন গাছপালাও মরে যাচ্ছে। গোড়াই শিল্পাঞ্চলের সোহাগপাড়া, গন্ধব্যপাড়া, নাজিরপাড়া, হাঁটুভাঙ্গা, সৈয়দপুর, ক্যাডেট কলেজসহ বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে সেখানেও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে। বিশেষ করে সোহাগপাড়া,খাল,ক্যাডেট কলেজ এলাকার খাল ও বিল, লৌহজং নদী, বংশাই নদীর পানি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় পানি পচে যাওয়ায় বিভিন্ন ফসল এবং সবজি আবাদ হুমকির মুখে পড়েছে। ব্যবসায়ী আশরাফ সিকদার, বাবুল সিকদার,ক্যাডেট কলেজ এলাকার চাকরিজীবী শামীম হোসেন, প্রভাষক নূরুল ইসলামসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে এবং পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পরিবেশ রক্ষার জন্য কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় দিন দিন এলাকার পরিবেশ আরও বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে,পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারের উচ্চ মহলের লোকজন প্রতিমাসে গোড়াই কলকারখানার মালিকদের নিকট থেকে মোটা অংকের মাসোহারা নিয়ে যাচ্ছে। ফলে এলাকার পরিবেশ সম্পর্কে তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী উপ পরিচালক মোঃ হাসান ইমামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,পরিবেশ রক্ষার জন্য আমরা গোড়াই এলাকায় শিল্পাঞ্চলে মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন কারখানায় অভিযান চালানো হয়। কারখানায় অব্যবস্থাপনার অভিযোগে ইতিমধ্যে কয়েকটি কারখানাকে জরিমানা করা হয়েছে। তাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আকতার চৌধূরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গোড়াই এলাকার কয়েকটি কারখানার বর্জ্যে এলাকার পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। অচিরেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।