ব্যথায় স্তব্ধ উল্লাস!

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৪, ২২:১৩
ব্রাজিলিয়ানদের জন্য সকালটা ছিল মিশ্র অনুভূতির। আগের রাতটা ছিল উত্সবের। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের জায়গা নিশ্চিত হয়ে গেছে; কিন্তু সকালে যে সেই উত্সব রংটা কেড়ে নিয়ে তার জায়গায় আসলো তীব্র শোক। ব্রাজিলের গণমাধ্যমগুলোও তাই কাঁদছে নেইমারের জন্য। বিশ্বকাপ স্বপ্ন টিকে আছে; কিন্তু চলে গেছেন স্বপ্ন সারথী নেইমার! কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার হুয়ান ক্যামিলো জুনিগার হাঁটুর আঘাতে মেরুদণ্ডের ইনজুরিতে পড়েছেন নেইমার। শেষ হয়ে গেছে নেইমারের বিশ্বকাপ অভিযানও। অন্তত পক্ষে চার সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে এই তারকাকে। বড় ধাক্কা লেগেছে তাই ব্রাজিলিয়ানদের বিশ্বকাপ স্বপ্নেও। তাকে হারিয়ে শুরু হয়ে গেছে হাহাকার! স্বপ্নে তবুও একটুও মরচে ধরেনি। আগেরদিনই অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা জানিয়ে রেখেছিলেন, নেইমারের জন্যই বিশ্বকাপ জিততে চায় ব্রাজিল। তার সাথে গলা মিলিয়ে দেশটির অন্যতম শীর্ষ দৈনিক ল্যান্স লিখেছে — ‘ওর জন্য খেলো!’ সংবাদপত্রের ভিতরে সাংবাদিক মাওরো বেটিং অতীত প্রেক্ষাপট টেনে নিয়ে এসেছেন। হাঙ্গেরির ফেরেঙ্ক পুসকাস (১৯৫৪) ও ইতালির ফ্রাঙ্কো ব্যারেসি (১৯৯৪) সালে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছিলেন। ছিটকে পড়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তী পেলেও। ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপে সেবার গ্যারিঞ্চা ঝলক দেখিয়েছিলেন। পেলের পরিবর্তে আসা আমারিলদো তাভারেজ দ্য সিলভেইরাও ছিলেন দারুণ। টুর্নামেন্টে করেছিলেন তিনটি গোল। আরেকটি দৈনিক ফোলহা ডি সাও পাওলো লিখেছে, ‘সেমিফাইনালে পৌঁছেছে ব্রাজিল; কিন্তু বাদ পড়েছে নেইমার।’ যদিও পত্রিকায় দেশটির অন্যতম শীর্ষ সাংবাদিকদের একজন জুকা কেফৌরি অবশ্য এখন পর্যন্ত ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের পথে কোন বাধা দেখছেন না, ‘এখন পর্যন্ত এটা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সেরা পারফরম্যান্স। আর সব কিছু ধীরে ধীরে ব্রাজিলিয়ানদের মন মতো হয়ে উঠছে। নেইমার থাকছেন না, অবশ্যই তার অভাব অনুভূত হবে। ও তো মাত্র একজন খেলোয়াড়। ১৯৬২ সালেও তো পেলেকে ছাড়াই আমরা বিশ্বকাপ জিতলাম।’ কোরেইও ব্রাজিলিয়েন্সের শিরোনাম ছিল— ‘ব্যথায় স্তব্ধ উল্লাস’। সাথে ছিল নেইমারের মাঠে শুয়ে কাতরানোর দৃশ্য। সংবাদে আরো বলা হয়, ‘কাপুরুষতা কেড়ে নিলো নেইমারের বিশ্বকাপ।’ সম্প্রচার মাধ্যমগুলোও এই ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। দেশটির কিংবদন্তীতুল্য টেলিভিশন সাংবাদিক গ্যালভাও বুয়েনা গ্লোবো টেলিভিশন নেটওয়ার্কে বলেন, ‘এটা বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ। খেলার মাঠে এমন ঘটনা মেনে নেয়া যায় না। এটা ফুটবল সৌন্দর্যের বিরোধী।’ ব্রাজিলিয়ানদের ক্ষোভের কারণ কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার হুয়ান ক্যামিলো জুনিগা ও রেফারি কার্লোস ভেলাস্কো ক্যারবালো। সাংবাদিক ও সংবাদ উপস্থাপক ফাতিমা বার্নার্দেস বলেন, ‘নেইমারের বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে যাওয়া আমাদের জন্য বিধ্বংসী এক ঘটনা। আরো বিস্ময়কর যে, এই ঘটনার জন্য যে দায়ী তারই কোন শাস্তি হলো না।’ ইতালির সাবেক বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক ফ্যাবিও ক্যানেভারোও দোষ দেখছেন জুুনিগার। স্পো টিভিকে তিনি বলেন, ‘আমি এতোটা সহজ ভাবে ঘটনাটাকে দেখতে পারছি না। এটা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ঘটনা। নেইমার কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটনাটা ঘটেছে। পিছন থেকে এসে ওকে আরেকজন ফেলে দিয়েছে।’