পরিদর্শনে ইউরোপের ক্রেতাদের গার্মেন্টস কারখানা পরিদর্শন জোট অ্যাকর্ড অন ফায়ার এন্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ এবং শ্রমিক অধিকার সংগঠন ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের (আইবিসি) নেতাদের কার্যক্রম নিয়ে সরকারের দুই মন্ত্রী ও বিজিএমইএ সভাপতির সামপ্রতিক বক্তব্যে উদ্বেগ জানিয়েছে অ্যাকর্ড। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এবং শ্রম প্রতিমন্ত্রী মজিবুল হক চুন্নুর কাছে পাঠানো পৃথক চিঠিতে এই উদ্বেগের কথা জানিয়েছে অ্যাকর্ডের স্টিয়ারিং কমিটি। সমপ্রতি পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, গত মে মাসে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলওর এক অনুষ্ঠানে অ্যাকর্ড এবং আইবিসির নেতাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রী নেতিবাচক মন্তব্য করেন। এর পর দু’টি প্রেস ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর একই ধরনের বক্তব্যকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে অ্যাকর্ড ।
প্রসঙ্গত, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর আন্তর্জাতিক চাপের পরিপ্রেক্ষিতে কারখানার অগ্নি ও ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করছে অ্যাকর্ড। পরিদর্শনে বড় ধরনের ত্রুটির কারণে ইতিমধ্যে ২০টি কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এই নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে শ্রমিকদের নির্যাতন করা হচ্ছে বলে শ্রমিক নেতা আমিরুল ইসলাম আমিন সমপ্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসম্যানদের কাছে একটি চিঠি পাঠান। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্যমন্ত্রী ইন্ডাস্ট্রিঅল এর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। অন্যদিকে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম চিঠি পাঠানোর সঙ্গে জড়িতদের রাষ্ট্রদ্রোহী আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। এর জবাবে অ্যাকর্ডের পক্ষ থেকে এই চিঠি পাঠানো হয়।
চিঠিতে আরো বলা হয়, অ্যাকর্ড, ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম ও আইবিসির নেতা নজরুল ইসলাম খান, রায় রমেশ চন্দ , শ্রমিক নেতা বাবুল আখতার, আমিরুল হক আমিন ও কল্পনা আক্তারের কর্মকাণ্ড নিয়ে নেতিবাচক বক্তব্য দেয়া হয়েছে। অন্যায়ভাবে তাদেরকে রাষ্ট্র বিরোধী কাজে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর সূত্র ধরে বাণিজ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে ইন্ডাস্ট্রিঅলের সদস্য সংগঠন ন্যাশনাল গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের (এনজিডব্লিওএফ) নেতা আমিরুল হক আমিনকে রাষ্ট্রদ্রোহী আখ্যা দিয়ে তার বিচার দাবি করেছেন বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম। এতে অ্যাকর্ডের সদস্য আইবিসি নেতাদের নিরাপত্তা এবং তাদের অধিকারের বিষয়টি গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
