সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বরিশালের বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর পর্যটন কেন্দ হিসেবে গড়ে ওঠেনি। পর্যটকদের আকর্ষণ করার মত এখানে পরিবেশ ও পর্যাপ্ত প্রাচীন কীর্তি আছে। উদ্যোগের অভাবে এখানকার পর্যটনকে বিকশিত করা যাচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিমত। বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশায় রাজবাড়ির সম্মুখে ইতিহাসখ্যাত দুর্গাসাগর দীঘি অবস্থিত।
স্থানীয় সূত্র জানায়, তখনকার চন্দ দীপ রাজবংশের চতুর্দশ রাজা শিব নারায়ণের অকাল মৃত্যু ঘটে। তখন তার রাণী গর্ভবতী ছিলেন। বিধবা রাণী দুর্গাবতী বুদ্ধিমতি ও প্রজাবত্সল ছিলেন। আঠার শতকের শেষভাগে নাটোরের রাণী ভবানী ও চন্দ দীপের রাণী দুর্গাবতী জমিদারী পরিচালনা করে বাংলার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন। রাণী দুর্গাবতী প্রজাদের মঙ্গলের জন্য অনেক পুকুর ও দীঘি খনন করেন নিজ অর্থ দিয়ে। তিনি ১৮৭০ সালে রাজধানী মাধবপাশায় এই দুর্গাসাগর দীঘি খনন করেন। কথিত আছে, রাণী একবারে যতদূর পায়ে হেঁটে যেতে পারবেন দীঘি তত বড় করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। রাণী ৬১ কানি জমি পায়ে হেঁটে অতিক্রম করেন। দীঘির পশ্চিমে শ্রীপুর, পূর্বে কলাডেমা, উত্তরে পাংশা এবং দক্ষিণে শোলনা ও ফুলতলা গ্রাম। চার গ্রামের মধ্যস্থানে এক শুভদিনে হাজার হাজার লোক দীঘি খনন কাজ শুরু করেন। চন্দ দীপ রাজ্যের বিভিন্ন গ্রাম হতে প্রজারা দীঘি খননে অংশ নেয়। দীঘি খনন কাজ শেষ করতে প্রায় ছয় মাস সময় লাগে। সারাদিন কাজ করে শ্রমিকরা পশ্চিম পাশে একটি দীঘিতে মাটি কাটার যন্ত্র ধুতেন। এ দীঘির নাম দেয়া হয় কোদাল দীঘি। দীঘি খনন ও অর্চনার জন্য রাণী রাজকোষ হতে তিন লাখ টাকা ব্যয় করেন। চারপাশে পঞ্চাশ ফুট বিস্তৃত চারটি পাকা ঘাট নির্মাণ করেন। প্রায় একশ’ বছর পূর্বে দীঘির চারপাশ জঙ্গলে ভরে যায়। তখনকার জেলা বোর্ড ১২০০ টাকা ব্যয় করে দীঘিটি পরিষ্কার করেন। ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ সরকার দীঘিটি আবার সংস্কার করে। এরপর আর সংস্কার করা হয়নি। দক্ষিণাঞ্চলবাসীর বিনোদন কেন্দ হিসেবে দুর্গা সাগরের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট মহলের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন এলাকাবাসী। নানা অব্যবস্থাপনা সত্ত্বেও এখানে প্রতিদিন শত শত পর্যটকের আগমন ঘটে। এখানে অধিকাংশ পর্যটক আসেন দূর-দূরান্ত থেকে। সরকার যদি উদ্যোগ গ্রহণ করে তাহলে এখানে প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটবে।
