কোনো ছাত্র যখন আঘাত পান তখন শিক্ষকও সেই আঘাতের অংশীদার হন। তিনি চেষ্টা করেন দ্রুত ছাত্রের ক্ষত সারিয়ে তুলতে। কিন্তু ভারতের বিহারের এক শিক্ষক ঘটিয়েছেন লঙ্কাকান্ড। তিনি ক্ষত সারানো নয়, নিজেই এক ছাত্রকে কামড়িয়ে ক্ষত সৃষ্টি করেছেন!
বিহারের শেখপুরার বার-বিঘার পাবলিক স্কুলের আবাসিক হলে এ ঘটনা ঘটে। উত্তর প্রদেশের রামপুর গ্রামের বাসিন্দা শামশেদ মির্জা। পেশায় ছিলেন ফটোসাংবাদিক। ২০০১ সালের এক অভিশপ্ত রাতে তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে যখন ঘুমাচ্ছিলেন। তখন কিছু লোক মুখোশ পরে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে। সঙ্গে ছিল অস্ত্র, দা এবং চাপাতি। সবাইকে চুপ করতে বলে নরপশুরা। তাইতো সবাই চুপ থাকে। তারা নির্যাতন করে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে মির্জাকে। অত:পর পলায়ন। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! বাবার হত্যাকান্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাব ইনসপেক্টর রত্নাকর মির্জার ছেলে কামালকে গ্রেপ্তার করে। তার নির্যাতনে মারা যান কামাল। এরপর ফাঁসানো হয় তার স্ত্রী জাহিদাকে। রত্নাকর অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী বিষ দিয়ে স্বামীকে হত্যা করেছেন। সব সাক্ষীর কাছ থেকে জোর করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। আর সাদা স্থানে স্ত্রীর বিরুদ্ধে সাক্ষীর সাক্ষ্য সাজানো হয়! কিন্তু সত্য কখনো চাপা থাকে না একথা হয়তো ভুলেই গিয়েছিল রত্নাকর! মামলার কিছু নথি হারিয়ে যায়। আর এর জন্য কঠিন জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হতে হয় রত্নাকরকে। আদালতে জিজ্ঞাসাবাদে ধরা পড়ে যায় রত্নাকর। জানা যায়, মির্জার মেয়ে ফাতিমা বাবার হত্যাকান্ডের পর রত্নাকর এবং তার সহযোগী বিশ্বম্ভার দাসকে দেখে ফেলেছিলেন। তিনি তার সাক্ষ্যে এসব জানালেও কোনো কাজে আসেনি।- টিএনএন।
