বেসরকারি চাকুরেদের আবেদন

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৪, ২১:৪০
বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের চাকরি সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যা নিষ্পত্তির জন্য প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল রয়েছে। তাঁরা সেখানেই আপিল করতে পারেন। সেখানে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। এছাড়াও তাঁরা উচ্চ আদালতে রিট করতে পারেন। কিন্তু সরকারি ও আধা সরকারি কোম্পানিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের চাকরি সংক্রান্ত সমস্যা নিষ্পত্তির জন্য প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল নেই এবং তাঁরা উচ্চ আদালতে রিট করতে পারেন না। সেক্ষেত্রে তাঁরা নিম্ন আদালতের শরণাপন্ন হন। কিন্তু ঐ প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি নিয়ন্ত্রণের জন্য যদি কোনো লিখিত সার্ভিস রুল না থাকে সেখানে তাকে বিচার পাওয়া থেকে বিরত রাখা হয় যে, ঐ ধরনের চাকরিজীবীর চাকরি ‘মাস্টার অ্যান্ড সার্ভেন্ট ডকট্রিন’ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী বিচার পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কোনো কোম্পানি যদি ঐ কোম্পানিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সার্ভিস রুল বা সংবিধিবদ্ধ বিধান তৈরি না করে, তবে কি সে দায় কর্মচারীরা বহন করবে? দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের উচিত কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা আরম্ভ করার অনুমতির আবেদনের সঙ্গে কর্মচারীদের সার্ভিস রুল অনুমোদন করিয়ে নেওয়ার বিধান করা। যে সব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি নিয়ন্ত্রণের জন্য সংবিধিবদ্ধ বিধান থাকবে না ঐসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কর্মচারীদের আনীত অভিযোগের নিষ্পত্তি সরকারি সার্ভিস রুল অনুযায়ী হওয়া উচিত। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার সম্পর্কে ২৬ (১) ধারায় বলা হয়েছে “এই ভাগের বিধানাবলীর সহিত অসামঞ্জস্য সকল প্রচলিত আইন যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, এই সংবিধান প্রবর্তন হইতে সেই সকল আইনের ততখানি বাতিল হইয়া যাইবে।” সংবিধানের ২৬ (২) ধারায় বলা হয়েছে “রাষ্ট্র এইভাগে কোন বিধানের সহিত অসামঞ্জস্য কোন আইন প্রণয়ন করিবেন না এবং অনুরূপ কোন আইন প্রণীত হইলে তাহা এই ভাগের কোন বিধানের সহিত যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইয়া যাইবে।” সংবিধানের ২৭ ধারাতে বলা হয়েছে, “সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।” সংবিধানের ৩১ ধারায় বর্ণিত হয়েছে “আইনের আশ্রয় লাভ এবং আইনানুযায়ী ও কেবল আইনানুযায়ী ব্যবহার লাভ যে কোন স্থানে অবস্থানরত প্রত্যেক নাগরিকের এবং সাময়িকভাবে বাংলাদেশে অবস্থানরত অপরাপর ব্যক্তির অবিচ্ছেদ্য অধিকার এবং বিশেষতঃ আইনানুযায়ী ব্যতীত এমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে না, যাহাতে কোন ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে।” এখানে দেখা যাচ্ছে যে, ‘মাস্টার অ্যান্ড সার্ভেন্টস ডকট্রিন’-এর মাধ্যমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকের মৌলিক অধিকার চরমভাবে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, আদালত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানকে সমুন্নত রাখবেন, না উচ্চ আদালতের রুলিং যা উল্লিখিত ২৬ (১), ২৬ (২), ২৭,৩১ ধারার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ তা মেনে চলবেন? উল্লিখিত ‘মাস্টার অ্যান্ড সার্ভেন্ট ডকট্রিন’টি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২৬ (১), ২৬ (২), ২৭, ৩১ ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিধায় অবিলম্বে তা রহিতকরণের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহামান্য প্রধান বিচারপতির কাছে বিনীত আবেদন জানাচ্ছি। মো. শরীফুর রহমান, শ-৭৭ হাজী রশিদ ম্যানশন, উত্তর বাড্ডা, বাড্ডা, ঢাকা