নরসিংদীতে আনারসের ভালো ফলন, দামে সন্তুষ্ট কৃষক

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৪, ২১:৫৪
‘রসে টসটস, নাম তার আনারস’। গ্রীষ্ম মৌসুমের সুস্বাদু ফল আনারস। নরসিংদী জেলায় উত্পাদিত আনারসের সুখ্যাতি রয়েছে পুরো দেশজুড়ে। গত বছরের মতো এবারও এখানে আনারসের ভালো ফলন হয়েছে। এ জেলায় উত্পাদিত জলঢুপী আনারস অন্যান্য জাতের আনারসের চেয়ে আকারে ছোট হলেও স্বাদে গন্ধে অতুলনীয়। অনেকে আবার একে ‘হানিকুইন’ নামে চিনে। এ জাতের আনারস খেতে যেমনই সুস্বাদু তেমনই সুমিষ্ট। নরসিংদী জেলার পলাশ, শিবপুর, রায়পুরা ও বেলাব উপজেলায় কমবেশি আনারস উত্পন্ন হলেও জেলার উত্পাদিত আনারসের ৯০ ভাগই উত্পন্ন হয় পলাশ উপজেলায়। পলাশ উপজেলার পাহাড়ী লাল মাটি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে জলঢুপী আনারস ব্যাপকভাবে চাষ হয়। তন্মধ্যে জিনারদী ইউনিয়নের রাবান, বরাবো, সাতটেকিয়া ও কুরাইতলী এলাকার নাম উল্লেখ যোগ্য। পলাশ উপজেলায় জলঢুপী বা ‘হানিকুইন’ জাতের আনারস চাষ করে কয়েকশ’ কৃষক স্বাবলম্বী হয়েছেন। এ বছর নরসিংদী জেলায় ১ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। এবার একর প্রতি প্রায় এক হাজার আনারসের চারা রোপণ করে চাষিরা প্রতি বিঘায় ১২শ’ থেকে ১৫শ’ করে আনারসের ফলন পেয়েছেন। পলাশ উপজেলার জিনারদী, রাবান ও বরাবো এলাকায় স্থানীয় কৃষকেরা আনারসের ছোট-বড় বাগান গড়ে তুলে সেখান থেকে উন্নতজাতের আনারস বাজারে সরবরাহ করছেন। বাড়ি-ঘরের আঙ্গিনাতেও আনারসের চারা রোপণ করে অনেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের বরাবো গ্রামের চাষি প্রমোদ দে এ প্রতিনিধিকে জানান, সময়মতো চারা, সার ও প্রয়োজনীয় উপকরণের জোগান পাওয়ায় এই বছর আনারসের ফলন অনেক বেশি হয়েছে। রাবান এলাকার চাষি সুশীল সরকার জানান, এই বছর তিনি ৩ বিঘা জমিতে আনারস চাষ করেছেন। এপর্যন্ত তিনি প্রায় ১ লাখ টাকার আনারস বিক্রি করেছেন, আরো ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। একই এলাকার অপর চাষি পুলিন রায় জানান, এ বছর আনারসের দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক ভাল। মাঝারি আকৃতির ১ হালি আনারস জমিতেই ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করতে পারছি। জিনারদী এলাকার চাষি আবুল কাশেম জানান, ‘হানিকুইন’ জাতের আনারস চাষে এক নতুনমাত্রা যোগ করেছেন এই অঞ্চলের কৃষকেরা। নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ মুকছেদ আলী জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মত বৃষ্টিপাতের ফলে আনারসের ফলন ভালো হয়েছে। তিনি বলেন, বাজারে ‘হানিকুইন’ জাতের আনারসের ব্যাপক চাহিদা থাকার অন্যতম কারণ হচ্ছে এটি খেতে খুব সুস্বাদু এবং সুন্দর গন্ধযুক্ত। স্থানীয় বাজারে এই আনারস প্রতি পিস ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।