কুড়িগ্রামের উলিপুরে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম নিয়ে ‘হ-য-ব-র-ল’ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তথ্য-সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও তালিকা প্রণয়ন না করায় সহস্রাধিক প্রাপ্ত বয়স্ক তরুণ-তরুণীকে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারেনি। বঞ্চিত ভোটারদের এ নিয়ে প্রতিনিয়ত নির্বাচন অফিসে চলছে বাকিবতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা।
জানা গেছে, উপজেলার ১ টি পৌরসভাসহ ১৩ টি ইউনিয়নে গত ১৫ জুন থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হয়। এজন্য উপজেলায় ২৯ জন সুপারভাইজারসহ ১৬৮ জন তথ্যসংগ্রহকারী নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসের তদারকির অভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইজার ও তথ্যসংগ্রহকারী নিয়ম অনুযায়ী বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করার কথা থাকলেও তারা ঘরে বসেই তথ্য সংগ্রহ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে অনেক ভোটারের নাম, ঠিকানা, জন্ম তারিখসহ তথ্য বিভ্রাটেরও আশংকা করছেন অভিজ্ঞমহল। উলিপুর পৌরসভার কাছারিপাড়া, জোদ্দারপাড়া, সরদারপাড়া, হায়াতখাঁ, মুন্সিপাড়া, নারিকেল বাড়ি, হাতিয়া ইউনিয়নের অনন্তপুর, মাঝিপাড়া, হাতিয়ার মেলা, গুনাইগাছ ইউনিয়নের পশ্চিম কালুডাঙ্গা, জুম্মাহাট, নাগড়াকুড়া, বজরা ইউনিয়নের খামার বজরা, বগুলাকুড়া, পশ্চিম বজরা ও থেতরাই ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকা ঘুরে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।
উপজেলার বেশিরভাগ গ্রামে ভোটার হালনাগাদ-এর জন্য কোন তথ্য সংগ্রহকারীর তত্পরতা দেখেনি সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোর সাধারণ মানুষ। অথচ হঠাত্ করে ছবি তোলার জন্য বিভিন্ন ইউনিয়নের নির্দিষ্ট স্থান ঘোষণা করায় উপজেলা জুড়ে বঞ্চিত ভোটার ও তাদের অভিভাবক মহলে তোলপাড় শুরু হয়। দায়সারাভাবে বিশাল এ উপজেলায় মাত্র ৮ হাজার ২১০ টি নতুন ভোটারকে তালিকাভুক্ত করানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা নির্বাচন অফিসার তার পছন্দের শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিয়োগ দেয়ায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা সদরের কাছারিপাড়ার আফজাল হোসেন জানান, তার নাতির বয়স ১৮ বছর পার হয়েছে। বিষয়টি অফিসে গিয়ে জানানোর পরও কোন তথ্য সংগ্রহকারী তার বাড়িতে যায়নি। উপজেলা চত্বরের ক্যান্টিন মালিক এরশাদ, সাবেক পৌর কমিশনার আব্দুল মোত্তালেব, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন চাঁদসহ অনেকেই জানান, তাদের বাড়িতে ভোটার হওয়ার মত ছেলে-মেয়ে থাকলেও গত ৩ জুলাই পর্যন্ত কোন তথ্য সংগ্রহকারী যায়নি।
উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের মত্স্যজীবী আলসিয়া জানান, তার ছেলের ২০ বছর পূর্ণ হলেও তিনি জানেন না ভোটার তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম নিয়ে কোন প্রচারণা চালানো হয়নি বলে গ্রামবাসীরা জানিয়েছে। উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের চর কর্পূরা গ্রামের শতাধিক বাড়িতেও তথ্য সংগ্রহকারী যায়নি বলে ঐ গ্রামের জয়নাল মিয়া ও আবু হানিফ জানান। থেতরাই ইউনিয়নের চর গোড়াইপিয়ার এলাকার ছলিম উদ্দিন জানান, তাদের গ্রামের কেউই জানেন না কবে থেকে ভোটার তালিকার কাজ শুরু হয়েছে। কার্যতঃ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঠিক তদারকির অভাবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ এর কার্যক্রমে এই বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল আজিজ সাংবাদিকদের জানান, তথ্য সংগ্রহকারীরা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
