সরগরম মুড়ির গ্রাম

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৪, ২২:৩৫
কথা বলারও ফুরসত নেই কারো। রোজার মাসের মুড়ির চাহিদাকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছে গ্রামের নারী-পুরষ এমনকি শিশুরাও। ‘মুড়ির গ্রাম’ হিসাবে খ্যাত ঠাকুরগাঁওয়ের মহব্বতপুর, হরিনারায়ণপুর ও গিলাবাড়ি গ্রামে গিয়ে চোখে পড়েছে এমন দৃশ্য। জেলার এ কটি গ্রামের প্রায় সবারই পেশা মুড়িভাজা। প্রায় সব বাড়িতেই চলছে এখন মুড়ি ভাজার ধুম। রমজান মাস এলেই হাতে ভাজা এই ‘গীগজ’ ধানের মুড়ির চাহিদা বেড়ে যায়। অর্ধ শতাব্দীকালেরও অধিক সময় ধরে মুড়ি ভেজে জীবনধারণ করে আসছে ঠাকুরগাঁওয়ের এসব গ্রামের ৫ শতাধিক পরিবার। আগে এ সংখ্যা আরো বেশি থাকলেও নানা সীমাবদ্ধতায় এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন অনেকে। অন্য মাসের তুলনায় রমজান মাসেই মুড়ির চাহিদা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। তাই ঠাকুরগাঁওয়ের মুড়ির গ্রাম হরিনারায়ণপুর ও গিলাবাড়ির পাঁচ শতাধিক নারী এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ভোরে মুড়ি ভাজার কাজ শেষ করেই তারা পায়ে হেঁটে মাথায় মুড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন এগ্রাম-ওগ্রাম, কেউবা শহরে। গিলাবাড়ি গ্রামের মুড়ি ব্যবসায়ী শ্রাবণী বলেন, রমজানে মুড়ির চাহিদা অনেক। কিন্তু পুঁজির অভাবে ঠিকমতো মুড়ি সরবরাহ করতে পারছি না। মিনতি রানী জানান, ভোর থেকে মুড়ি ভাজি, সকাল সাড়ে ৬টায় বাড়ি থেকে বের হই। শহরের বিভিন্ন পাড়া, মহল্লায় মুড়ি বিক্রি করি। জানা গেছে, পুঁজির অভাব ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পালা দিয়ে টিকতে পারছে না এসব গ্রামের নারীরা। তাদের তৈরি ভেজালমুক্ত মুড়ির চাহিদা থাকলেও সরবরাহ করতে পারছেন না তারা। আর কেউবা ব্যবসায় টিকতে না পেরে অন্য পেশায় চলে গেছেন। হরিনারায়ণপুরের সুরভী রানী জানান, মুড়ির চাল কিনে বাড়িতে পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার করি। এরপর লবণ দিয়ে রাখি। তার পর রোদে শুকিয়ে হাতে ভাজতে হয়। আর মেশিনে যারা মুড়ি ভাজে তারা ‘হাইড্রোস’ মিশিয়ে মুড়ি বড় ও সাদা করে কম দামে বিক্রি করে। এদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টেকা কষ্টকর। বিনয় ঘোষ জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের বেশির ভাগ মুড়ির চাহিদা হরিনারায়ণপুর ও গিলাবাড়ি থেকে মেটানো হয়। ৩ থেকে ৪ দিন মুড়ি বিক্রি করে লাভ হয় ৪০০ টাকা। প্রতিকেজি মুড়ি বিক্রি হয় ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।