নাইকোর মামলায় বাংলাদেশের জয়

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৪, ২২:৩৬
অর্থ আদায় ও সম্পত্তি হস্তান্তর বিষয়ে কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকোর করা মামলা খারিজ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক সালিশ আদালত ‘ইকসিড’ (ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউট)। এর ফলে আন্তর্জাতিক আদালতে নাইকোর করা দুটি মামলার একটিতে জয় পেল বাংলাদেশ। আরেকটি মামলার (ক্ষতিপূরণ বিষয়ক) অধিকতর শুনানি শেষে আগামী ডিসেম্বরে রায় হবে বলে জানা গেছে। পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর বিষয়টির সত্যতা স্বীকার বলেছেন, এই রায়ের ফলে নাইকোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে আর কোন বাঁধা থাকলো না। তিনি বলেন, মামলার রায়ে বলা হয়েছে, ক্ষতিপূরণের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নাইকো দেশের কোন সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবে না। বিক্রি করতে চাইলে তাদের বাংলাদেশ সরকারের লিখিত অনুমোদন নিতে হবে। গত রবিবার আন্তর্জাতিক আদালতে ‘ইকসিড’ নাইকোর করা মামলায় এই রায় দিয়েছে। রায়ে আরো বলা হয়েছে, ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাসের দামের জন্য নাইকো পেট্রোবাংলার কাছে যে ২৭ মিলিয়ন ডলার বা ২১৬ কোটি টাকা পাবে তা এখনই দিতে হবে না। গতকাল সোমবার পেট্রোবাংলা ই-মেইলে রায়ের বিস্তারিত গণমাধ্যমে পাঠিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে নাইকো বাপেক্সকে সঙ্গে নিয়ে ফেনী এবং ছাতক গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নের দায়িত্ব পায়। দুই ক্ষেত্রে নাইকো ৮০ শতাংশ এবং বাকি ২০ শতাংশের মালিকানা ছিল বাপেক্সের। ফেনীতে সফলভাবে গ্যাস উত্পাদন শুরু হলেও ছাতকে বিষ্ফোরণ ঘটে। ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন টেংরাটিলায় অনুসন্ধান কূপ খননের সময় নাইকোর অবহেলার কারণে দুই দফা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের ক্ষতি হয়। আগুন লাগার জন্য নাইকোকে দায়ী করা হয়। ক্ষতিপূরণ আদায় করতে ব্যর্থ হয়ে সরকার তাদের ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাসের দাম শোধ করা বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশের আদালতও তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে। পরে ২০১০ সালে ‘ইকসিডে’ দুটি মামলা করে নাইকো। একটি গ্যাসের বকেয়া বিল আদায় সংক্রান্ত (আরবি/১০/১৮)। অন্যটি টেংরাটিলা বিস্ফোরণে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত মামলা (আরবি/১০/১১)। প্রথম মামলাটির রায়ে আন্তর্জাতিক আদালত বলেছে, আপাতত ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের জন্য পাওনা টাকা পেট্রোবাংলাকে দিতে হবে না। এছাড়া বাংলাদেশে নাইকোর যত সম্পত্তি আছে তা পেট্রোবাংলা এবং সরকারের অনুমতি ছাড়া হস্তান্তর বা বিক্রি করতে পারবে না। সমপ্রতি নাইকো বাঙ্গুরা গ্যাস ক্ষেত্রের অংশ বিক্রি করে বাংলাদেশ থেকে চলে যাওয়ার উদ্যোগ নিলে পেট্রোবাংলা নাইকোকে ওই অংশ বিক্রি করতে দেয়নি। উত্পাদন বন্টন চুক্তি অনুযায়ী যে কোন কোম্পানি তাদের অংশ অন্য কারো কাছে বিক্রি করতে পারে। কিন্তু নাইকোর সাথে অমীমাংসিত বিষয় থাকায় পেট্রোবাংলা সে অনুমোদন দেয়নি। উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ গ্যাস পুড়ে যায়। পরিবেশ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পদের ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় ২০০৮ সালের ১৫ জুন নাইকোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালতে মামলা দায়ের করে পেট্রোবাংলা এবং বাংলাদেশ সরকার। মামলায় গ্যাস এবং স্থানীয়দের সম্পদ ধ্বংস হওয়ায় ৭৪৬ কোটি ৫০ লাখ ৮৩ হাজার ৯৭৩ টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়। যদিও পেট্রোবাংলার ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে পরিবেশবাদীদের বেশ আপত্তি রয়েছে। তাদের বক্তব্য, প্রকৃত ক্ষতির চেয়ে ক্ষতিপূরণ অনেক কম দেখানো হয়েছে। পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, ঢাকার আদালতে মামলা দায়েরের পর থেকেই নাইকো বার বার শুনানিতে সময় চেয়ে তা পিছিয়েছে। এখন মামলাটি ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ-২ এর আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তবে সর্বশেষ ফেনী গ্যাস ক্ষেত্রের গ্যাসের মূল্য বাবদ ২৭ দশমিক ৩১৭ মিলিয়ন ডলার এবং নাইকোর নয় নম্বর ব্লক-এর স্বত্ব, সকল স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি কেন বাজেয়াপ্ত করা হবে না এই মর্মে আদালতের মাধ্যমে নাইকোকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়েছে।