সমুদ্রসীমা নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের বিরোধ নিষ্পত্তির রায় আজ মঙ্গলবার প্রকাশ করা হবে। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সময় দুপুর দুইটায় নেদারল্যান্ড-এর হেগে অবস্থিত সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক স্থায়ী সালিস আদালত (পিসিএ) এ রায় প্রদান করে এবং মামলাটির দুই পক্ষ বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করে। নেদারল্যান্ডস-এ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ বেলাল আহমেদ রায় গ্রহণ করেন ও ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠান। স্থায়ী সালিস আদালতের বিধান অনুযায়ী রায় হস্তান্তরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা প্রকাশ করা যাবে না। সে অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে রায় প্রকাশ করবে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বহিঃপ্রচার অণুবিভাগের মহাপরিচালক সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের রায় সরকারের কাছে এসেছে। এখন রায়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার বিকালে রায়ের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে হেগে স্থায়ী সালিস আদালতে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ মামলায় বাংলাদেশ ও ভারত নিজ নিজ পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। উভয়পক্ষের শুনানিশেষে ছয় মাসের মধ্যে রায় প্রদানের কথা জানান সালিস আদালত। ২০০৯ সালের ৮ অক্টোবর স্থায়ী সালিস আদালতে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির মামলা করে বাংলাদেশ। এতবছর ধরে তথ্য-প্রমাণ, দলিল, যুক্তিতর্ক পেশ করা হয়। সমুদ্রসীমা নির্ধারণে সমদূরত্বের রেখা টানার যুক্তি দেয় ভারত। এর ফলে সমুদ্রতট থেকে সীমারেখা হবে ১৬২ ডিগ্রি। অন্যদিকে বাংলাদেশ উপকূলীয় রেখা অবতলীয় হওয়ায় ন্যায্যতার (ইক্যুইটি) ভিত্তিতে সীমারেখা টানার কথা বলে। যেখানে রেখা হবে ভূমির মূল বিন্দু থেকে সমুদ্রের দিকে ১৮০ ডিগ্রি।
প্রসঙ্গত: প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বাংলাদেশের বিরোধ চলছে কয়েক যুগ ধরে। মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধ ২০১২ সালে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। জার্মানীর হামবুর্গে সমুদ্র আইন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে (ইটলস) দুই দেশের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়। বাংলাদেশ দাবি অনুযায়ী ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমুদ্রসীমার অধিকার ফিরে পায়।
