প্রথম ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমেই কেড়ে নিয়েছিলেন বিশ্বকাপের সবটুকু আলো। গোল করে হয়ে উঠেছিলেন বেলজিয়ামের ভরসার প্রতীক। হয়ে উঠেছিলেন ম্যারুয়েন ফেলাইনি। প্রতিপক্ষের সামনে তিনি যেন এক মূর্তিমান আতঙ্ক। বাকি ম্যাচগুলোতে গোলের দেখা না পেলেও বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রা মোটেই তাকে নিয়ে কোনভাবে স্বস্তিতে থাকতে পারেননি।
পারবেনই বা কি করে! পাঁচ ম্যাচে ফেলাইনি একাই যে করে ফেলেছেন ১৯টি ফাউল। চলমান বিশ্বকাপে এটাই কোন খেলোয়াড়ের করা সর্বোচ্চ ফাউল। আর ব্রাজিলে আসার পর থেকে প্রতিটি ম্যাচেই দেখা গেছে ঝাকড়া চুলের তারকার এই রূদ্রমূর্তি।
এর বিপরীতে বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে, তাকে কোন অন্য দলের কোন খেলোয়াড় কোন প্রকার ফাউল করার সাহস দেখাননি। এই তালিকায় আছেন নেদারল্যান্ডের রবিন ফন পার্সি ও ব্রাজিলের ফার্নান্দিনহো। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের এই দুই খেলোয়াড় করেছেন ১২টি করে ফাউল।
ফাউলের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা ফেলাইনি মাঠে ছিলেন মোট ৪১৫ মিনিট। এর মধ্যে ১৯টি ফাউল এসেছে। অর্থাত্, পরিসংখ্যান মতে প্রতি ২২ মিনিট বাদে একেকবার প্রতিপক্ষে কোন খেলোয়াড়কে আক্রমণ করে বসেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই তারকা।
ফেলাইনির পর দ্বিতীয় স্থানে আছেন ইরানের রেজা ঘুচানেঝাদ। ২৭০ মিনিট মাঠে থেকে এই ফরোয়ার্ড ১৬টি ফাউল করেছেন। কোস্টারিকার দুই খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ান বোলানোস ও ব্রায়ান রুইজ করেছেন যথাক্রমে ১৪ ও ১৩টি করে ফাউল। সুইজারল্যান্ডের ‘মেসি’ বলে পরিচিত জেরদান শাকিরি করেছেন ১৩টি ফাউল।
সময়ের দিক থেকে ধরলে অবশ্য এই তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে থাকবেন নেদারল্যান্ডসের জারমেইন লেন্স। মাত্র ১২৭ মিনিট মাঠে থেকেই তিনি করে ফেলেছেন ৯টি ফাউল। মানে প্রতি ১৪ মিনিটে একটি করে ফাউল। ফাউলের রাজা তাহলে কে? ফেলাইনি না লেন্স? ইরানের রেজাও কিন্তু পিছিয়ে নেই। প্রতি ১৬ মিনিটে তার কাছ থেকে একটি করে ফাউল দেখেছে বিশ্বকাপ।
এবারের বিশ্বকাপ এর চেয়েও আজব কিছু ঘটনার সাক্ষী হয়ে আছে। লিয়াসিনি কাদামুরো-বেনটাইবা ও অস্কার গ্রানাদোস দু’জন মাঠে না নেমেই দেখে ফেলেছেন হলুদ কার্ড। আলজেরিয়ান কাদামুরো-বেনটাইবা বেঞ্চে বসে সময় নষ্ট করা মাশুল দেন হলুদ কার্ড দেখে। আর সাইড বেঞ্চ থেকে কোস্টারিকার গ্রানাদোস রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করায় পান একই শাস্তি।
ফাউলের শিকার হওয়ার কিছু অস্বাভাবিক ঘটনাও দেখলো বিশ্বকাপ। এই যেমন ইংল্যান্ডের রিকি ল্যাম্বার্ট। ৩২ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় কেবল এক উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচেই খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। ২-১ গোলে ইংলিশদের হারের সেই ম্যাচে মাত্র তিন মিনিট মাঠে থেকেই বিপক্ষ দলের এক খেলোয়াড়ের কাছ থেকে ফাউলের শিকার হন তিনি।
প্রায় কাছাকাছি অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন আইভোরি কোস্টের জিওভানি সিও। সাত মিনিট মাঠে থেকে তিনি দু’বার ফাউলের শিকার হয়েছেন। এরই নাম বিশ্বকাপ!
