নেদারল্যান্ডস-আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালটাকে আজ বলা যেতে পারে লিওনেল মেসি-আরিয়েন রোবেনের ব্যক্তিগত দ্বৈরথও। কারণ, দুই দলের সাফল্য-ব্যর্থতা নির্ভর করছে তাদের উপরেই। অতীত অর্জন বিবেচনায় রোবেনকে হয়তো অনেকেই মেসির সাথে তুলনায় আপত্তি জানাবেন। তবে সাবেক ডাচ কোচ বার্ট ফন মারউইকের মনে করেন, আর্জেন্টিনা দলে মেসির যে প্রভাব, ডাচ শিবিরে রোবেনের ভূমিকাটা ঠিক তেমনই। মেসির মতোই একক নৈপূন্যে ম্যাচের ফল পাল্টে দেয়ার ক্ষমতা আছে এই বায়ার্ন মিউনিখ তারকারও। তাই আজ মেসিকে ম্লা্ন করে রোবেনই ম্যাচের নায়ক হয়ে উঠবেন বলে মারউইকের বিশ্বাস।
প্রতিপক্ষের পেনাল্টি সীমানায় ইচ্ছা করে ঝাঁপিয়ে পড়ে ফাউল আদায় করে নেয়ার চেষ্টা করেন, রোবেনের এই পরিচয়টা মোটেই নতুন নয়। এবার টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই যেন নিজের পুরনো ‘ডাইভার’ খেতাবটা নতুন করে ঝালিয়ে নিতে শুরু করেন তিনি! আর এই সমালোচনা তীব্র রূপ ধারন করে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে শেষ ষোলোর ম্যাচে। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে রোবেনের নাটকের সুবাদে পাওয়া পেনাল্টি থেকেই জয় আদায় করে নেয় তার দল। ডাচদের কোয়ার্টার ফাইনাল প্রতিপক্ষ কোস্টারিকার কোচ পিন্টো তো সরাসরিই বলে দেন, প্রতিপক্ষ নয় তার আসল ভয় রোবেনের ডাইভিং নিয়ে। অথচ, এত সব নেতিবাচক তথ্যও ম্লান করতে পারছে না বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্সকে।
টুর্নামেন্টে রোবেনের পারফরম্যান্সকেই ডাচদের দলীয় পারফরম্যান্সের হাইলাইটস বলে চালিয়ে দেয়া যায়! তিনটি গোল নিজে করার পাশাপাশি ভূমিকা রেখেছেন আরো তিনটি গোলে। তবে রোবেনের আসল প্রভাবটা এই পরিসংখ্যান দিয়ে বোঝানো যাবে না। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত যতবার রোবেনের পায়ে বল গেছে, ততবারই আতঙ্ক ছড়িয়েছে প্রতিপক্ষ শিবিরে। অবিশ্বাস্য গতি আর দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে বার বারই হানা দিয়েছেন বিরোধী দলের গোলমুখে। আর্জেন্টিনার হয়ে ঠিক এই কাজটাই করে আসছেন মেসিও। তাই, সাও পাওলোতে আজকের মহাগুরুত্বপূর্ন ম্যাচে মারউইক রোবেনকে তুলনা করেছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের সঙ্গে, ‘আর্জেন্টিনার মেসি আছে। আর আমাদের আছে রোবেন। যদি সত্যি কথা বলি, আমি রোবেনকেই এগিয়ে রাখবো তাদের মধ্যে।’
গত বিশ্বকাপে ডাচদের দায়িত্বে থাকা এই কোচ জানালেন, এই আসরের রোবেন পারফরম্যান্স বিচারে ছাড়িয়ে গেছেন গত আসরকেও। দক্ষিণ আফ্রিকায় গত আসরে দলকে ফাইনালে পৌছে দেয়া এই কোচ বলেন, ‘ আমি আসলে কিছুটা ঈর্ষান্বিতই বোধ করছি, কারণ এবারের রোবেন ছাড়িয়ে গেছেন গত আসরের রোবেনকেও। চার বছরের ব্যবধান রোবেনের মানসিকতায় বড় পরিবর্তন ঘটিয়েছে।’
পরিপূর্ন ফিটনেসকে রোবেনের এই অসাধারন পারফরম্যান্সের নেপথ্য কারণ হিসাবে জানিয়ে মারউইক বলেন, ‘চার বছর আগে টুর্নামেন্টের ঠিক আগে হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে বড় ধরনের চোটের শিকার হয়েছিল রোবেন। পুরো টুর্নামেন্টেই সেটা তাকে ভুগিয়েছে এবং কখনোই সে তার শতভাগ ঢেলে দিতে পারেনি। তবে এই বছর তাকে অপ্রতিরোধ্য মনে হচ্ছে।’
চার বছর আগে জোহানেসবার্গে স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনালে রোবেনের ফর্মহীনতাই ডাচদের পরাজয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিল বলেও তিনি জানান। তবে এবার ভিন্ন কিছুই অপেক্ষা করছে বলে বিশ্বাস তার। মারউইকের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করলেন সাবেক ডাচ তারকা ফিলিপ কোকুও। জাতীয় দলের সাবেক ডিফেন্ডার এবং পিএসভি আইন্দহোভেনের বর্তমান কোচ কোকুর বিশ্বাস, ৩০ বছর বয়সী রোবেন তার ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে আছেন। তিনি বলেন, ‘তার মতো একজন খেলোয়াড় যদি দলে থাকে তাহলে আর্জেন্টিনাকে ভয় পাবার কোন কারণই নেই। কোস্টারিকার বিরুদ্ধে খেলার শেষ দিকে রোবেন যেই গতিতে বার বার প্রতিপক্ষ গোল মুখে ধেয়ে যাচ্ছিল, সেটা রীতিমতো অবিশ্বাস্য।’ এএফপি
