মাঠে নেইমার-থিয়েগো!

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৯
ব্রাজিল অধিনায়ক থিয়েগো সিলভা জানিয়েছেন, হলুদ কার্ডের জন্য তিনি নিজে এবং ইনজুরির কারণে নেইমার খেলতে না পারলেও সতীর্থরা মাঠেই তাদের উপস্থিতি টের পাবেন। এটাই হবে জার্মানির বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ব্রাজিল দলের জন্য সবচেয়ে বড় প্রেরণা। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ব্রাজিল ও জার্মানির মধ্যকার খেলার প্রাক্কালে ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে থিয়েগো সিলভা এ কথা বলেন। মিনোরিও স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালের আগে গত সোমবার রাতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ছিল পিনপতন নীরবতা। নেইমারের মতোই অধিনায়ক থিয়েগো সিলভা কাল রাতের ম্যাচটিতে অংশ নিতে পারবেন না জেনেও সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন সেলেসাও অধিনায়ক। ব্রাজিল কোচ লুইস স্কোলারি মাঝে মাঝে হাসি ছড়িয়েছেন, তবে সেটাও ছিল যেন কৃত্রিম হাসি। কোচের সাথেই বসেছিলেন অধিনায়ক সিলভা শোকাহত মন নিয়ে। হলুদ টি শার্ট গায়ে, বাহুতে উল্কির ছাপ। ডান হাতের আঙ্গুলে হীরার আংটি। বা হাতে কালো রংয়ের ঘড়ি। পাশে স্কোলারি বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন। চুপচাপ সবার কথা শুনছিলেন। ইত্তেফাক প্রতিনিধি তাকে পরিচয় দিয়ে বললেন, ‘নেইমারের জন্য বাংলাদেশে ব্রাজিল সমর্থকদের মন ভেঙ্গে গেছে। তারা দূরের দেশের ছেলেটির জন্য প্রার্থনা করছেন।’ নেইমার এবং বাংলাদেশ নামটা শোনার সাথে সাথে স্কোলারি ঘাড় ঘুরিয়ে মনোযোগ দিলেন। তাকে বলা হলো- ‘বাংলাদেশের ফুটবল দর্শকরা নেইমারকে পছন্দ করেন। ফুটবলাররাও নেইমারের ভক্ত। অনেকেই নেইমারকে অনুসরণ করেন।’ হেডফোনে কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে (পর্তুগীজ ভাষায়) শুনলেন স্কোলারি এবং থিয়েগো সিলভা। কোন জবাব দিলেন না। থিয়েগো সিলভাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, দুই হলুদ কার্ডের সাসপেনশনের কারণে আপনি নিজে মাঠে থাকতে পারছেন না। চোট পেয়ে নেইমার থাকবেন না। এই মুহূর্তে দলের কোন জায়গাটি শক্তিশালী? বার বার বোতলে পানি খাচ্ছিলেন ব্রাজিল অধিনায়ক। টেবিলের উপরে বোতলটা রেখে প্রশ্নের জবাবে থিয়েগো কিছুটা সময় নিয়ে বলেন, ‘আমি এবং নেইমার মাঠে থাকবো না; কিন্তু আমাদের দুইজনের আত্মা মাঠের এগারো জনের সাথে থাকবে। তার মানে আমরা মাঠেই থাকবো। আমাদের কোচ যে একাদশটি মাঠে নামাবেন তাদের মধ্যেই আমরা থাকবো। এটাই থাকবে দলের জন্য সবচেয়ে বড় প্রেরণা। আর আপনি যে হলুদ কার্ডের কথা আমাকে বললেন। বিশ্বাস করুন, আমি হলুদ কার্ড পাওয়ার মতো অন্যায় করিনি। আমি ব্রাজিলের মতো একটি সবচয়ে বড় ফুটবল দেশের অধিনায়ক। আমি কি এমন কোনো কিছু করতে পারি (?) যার কারণে পুরো দল ভুগবে। আমি তো বাচ্চা নই। একটা ফাউল করে ফেলবো। আমি তো আগেই জানি একটা হলুদ কার্ড আমার নামে লেখা আছে। আমি কেন আরেকটি হলুদ কার্ডের অপরাধ করবো। আমার এইটুকু বোধশক্তি আছে। কলম্বিয়ার গোলকিপারের সাথে আমার অনিচ্ছাকৃত ধাক্কা লেগেছে। আমি একটুও ঘুমাতে পারিনি। দলের এই সময় আমি তুচ্ছ একটা কারণে মাঠের বাইরে চলে আসবো। এটা তো হলুদ কার্ডের ফাউল হয়নি। আপনি কী টিভি রিপ্লেতে ফাউলের ঘটনাটা দেখেছেন? দেখে থাকলে বুঝবেন এটা ইচ্ছাকৃত নাকি অনিচ্ছাকৃত।’ কথাগুলো বলতে বলতে মাথা ঝাঁকিয়ে ঠোঁট কামড়ে আফসোস করছিলেন ব্রাজিল অধিনায়ক। দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল, আপনার দলে এমন কেউ আছেন যিনি ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন? থিয়েগো তার জবাবে বলেন, ‘আমার দলে এখন সবাই শক্তিশালী। কাউকে আমি ছোট করে দেখতে পারবো না। কারণ আমরা নেইমারের ঘটনার পর সবাই অন্য রকম হয়ে গিয়েছি। আর আপনাকেও বলি, ব্রাজিল-জার্মানির সেমিফাইনাল ম্যাচটা কেউ একজন খেলে জেতাতে পারবে না। দুই দলের ভেতরে এই পরিস্থিতি নেই। এটা হবে পুরো দলের খেলা। সবাইকে খেলতে হবে। আমি মনে করি, জার্মানির বিরুদ্ধে আমাদের ম্যাচটা হবে ওয়ার্ল্ড ফুটবলের ডার্বি ম্যাচ।’ ২য় সেমিফাইনাল আর্জেন্টিনা-নেদারল্যান্ডস, রাত ২:০০